শহিদুল ইসলাম শাহীন, বিশেষ প্রতিনিধি (উত্তরবঙ্গ) : ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস স্ত্রী সন্তানের সুখের জন্য অভাব অনাটনের সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে রাজা মিয়া নামের এক বাংলাদেশী শ্রমিক মালয়েশিয়ায় গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। তার স্বপ্ন আর সকল আশা এখন সব যেন গুড়েবালি হয়ে গেলো। এ পরিস্থিতিতে তার স্ত্রী সন্তান হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন।

মৃত রাজা মিয়া গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা পশ্চিম খামার দশলিয়া গ্রামের আলা উদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে। মৃতের স্বজনেরা জানান, গত বুধবার মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কোন পরিচয় না দিয়ে তার পরিবার কে রাজা মিয়ার মৃত্যুর খবর দেন।
কিভাবে মারা গেছে, এর কারন জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে শুধু বলেন এতো কিছু বলতে পারবো না, বলেই ফোনটি কেটে দেন ।
এ খবর জানার সাথে সাথে রাজার পরিবারের সকলেই গগনবিদারী আহাজারী করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। স্বামী ও বাবা হারানোর শোকে স্ত্রী সন্তানের বুক ফাটা আর্তনাদে আকাশ বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠে।
এ সময় তাদের এমন করুন দৃশ্য দেখে ওই গ্রামের নারী পুরুষ কেউ অশ্রু সংবরন করতে পারেননি। এমতবস্থায় গোটা গ্রামে চলছে শোকের মাতম। মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী অজিফা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আজ থেকে ১৩ বছর আগে আমার স্বামী মালয়েশিয়ায় যান।
এরমধ্যে ২ মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। আজ থেকে ১৩ বছর আগে মালয়েশিয়ায় যান। এরমধ্যে ২ মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন।
আমার স্বামী কিভাবে মারা গেছেন আমি এখন পর্যন্ত এর সঠিক কোন কারন জানতে পারিনি। এতে আমি সন্দিহান আমার স্বামীর মৃত্যুর পিছনে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে।

আমার স্বামীর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। রাজা মিয়ার মামা ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, রাজার লাশের জন্য তার পরিবার আত্নীয়স্বজন অপেক্ষা করলেও ময়না তদন্ত সাপেক্ষে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে শুনতে পেরেছি।
তবে কবে নাগাদ লাশ দেশে পাঠানো হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারায় রাজার পরিবার লাশ পাওয়া না পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছে।