মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন

সৌদি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের, বাড়ছে উত্তেজনা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে এটিকে অন্যতম বড় উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার জবাব হিসেবে একই দিন আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতিরা। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ইয়েমেনে হামলার অভিযোগ নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

এর আগে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছিল, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার উদ্দেশ্য ছিল একটি ইরানি বিমানকে সেখানে অবতরণে বাধা দেওয়া। ওই হামলার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল হুতিরা। তুলনামূলক শান্ত সময়ের পর এটিই সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা। এর মাধ্যমে সৌদি আরব এবং ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর মধ্যে চলা চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হলো।

এদিকে সোমবার বিকেলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বলেন, ইয়েমেন কিংবা পুরো অঞ্চল আরেক দফা সংঘাতের সামর্থ্য রাখে না। তিনি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আলোচনায় গঠনমূলকভাবে অংশ নিতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলভিত্তিক সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট উত্তরাঞ্চলে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরবের সাম্প্রতিক বিমান হামলার মাধ্যমে ‘উত্তেজনা কমানোর সময়ের সমাপ্তি’ ঘটেছে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে এবং এর জন্য মূল্য দিতে হবে। পরবর্তী আরেকটি বার্তায় সারি দাবি করেন, সানায় পরিচালিত হামলার উদ্দেশ্য ছিল রোগী ও আটকে পড়া মানুষ বহনকারী মানবিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা এবং উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট অভিযান শুরু করে, যাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেয়।

তবে চলতি বছরের শুরুতে ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে আমিরাত ওই সংঘাত থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।

অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি সোমবার রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD