শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চীনের সংশোধিত প্রতিরক্ষা নতুন আইনে প্রভাব পড়বে প্রায় প্রতিটি খাতে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পানামা, ভয়াবহ ক্ষতির শঙ্কা মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: প্রধানমন্ত্রী হাম উপসর্গে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে যাবে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবে না: রাশেদ খাঁন স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যার মূল আসামি চট্টগ্রাম থেকে আটক বাবার ফোনে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল তাজমিন, সেই লোকেশনে গিয়ে পান লাশ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব পুতিনের বিশ্ব ডিম দিবস আজ, চাহিদার চেয়ে উৎপাদন কম

স্বতন্ত্র ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা ঘোষণা বাংলাদেশের

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৩

স্বতন্ত্র ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। চারটি মৌলিক নীতিমালার ওপর প্রণীত এ রূপরেখায় ১৫টি অভিলক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য সফরের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এ রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ রূপরেখা পড়ে শোনান। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন পাশে ছিলেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বা কোয়াডের সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান এবং পশ্চিমের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরের আগে এ রূপরেখা প্রকাশ করা হলো।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিকে তার ‘ভিশন ২০৪১’ বাস্তবায়ন তথা ২০৪১ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, জ্ঞান-ভিত্তিক, উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈশ্বিক জিডিপিতে সামষ্টিক অংশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অগ্রগণ্য অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সামগ্রিক কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি খাতে গতিশীল বিকাশ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অর্থনীতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতকল্পে একটি সুদূরপ্রসারি ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশ তাই এই অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট সকলের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক-এর ধারণা বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে।

রূপরেখায় চারটি নীতিমালা উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রথমটি হচ্ছে- ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। নীতিমালায় টেকসই উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবিক কার্যক্রম এবং মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে গঠনমূলক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর জোর দেওয়া হয়।

এতে ১৫টি অভিলক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সকলের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান অক্ষুন্ণ রাখা। অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং সংলাপ ও বোঝাপড়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের সাথে একযোগে আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ, শান্তিরক্ষা, শান্তি বিনির্মাণ এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে অর্থবহ ও আন্তর্জাতিক মূল্যবোধসম্পন্ন অবদান রাখা।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধসমূহ দমনে নীতি কাঠামো প্রণয়ন ও ব্যবহারিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়াসকে সমর্থন করা। যে কোন ভবিষ্যৎ সঙ্কট ও বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতি সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ও অবাধ বাণিজ্য প্রবাহকে সুসংহত করতে টেকসই আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক জোগান শৃঙ্খল বা ভ্যালু চেইন তৈরির উদ্দেশ্যে দেশীয় কৃষি, শিল্প এবং সেবা খাতসমূহের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা, জল-সংহতি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে দেশীয় উত্তম চর্চাসমূহকে তুলে ধরাসহ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।

জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, সামুদ্রিক দূষণ এবং পরিবেশের উপর ক্ষতিকারক প্রভাবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও অঙ্গীকারসমূহের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ধারাবাহিকভাবে দৃশ্যমান কার্যক্রম নেওয়া। সকলের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

ভবিষ্যৎ অতিমারী মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন, ডায়াগনস্টিক ও চিকিৎসা সুরক্ষা সামগ্রীর মতো ‘বৈশ্বিক সম্পদ’-এ সবার অভিগম্যতা নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং পরস্পরের পরিপূরক স্বার্থসমূহ সমুন্নত রাখতে উপ-আঞ্চলিক অংশীদার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD