হঠাৎ করেই ফরিদপুরে শুরু হয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। এ কারণে মেঝে ও বারান্দাগুলোতেও ডায়রিয়া রোগী ভর্তি। জেলা হাসপাতালগুলোর সিটের তুলনায় আক্রান্ত রোগীর হার কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার (৪ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সিট সংখ্যা ১০টি। কিন্তু সেখানে কোনো সিট খালি নেই। প্রায় তিনগুণেরও বেশি ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে। বৃহত্তর ফরিদপুরের অন্যতম শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র ড. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল। হাসপাতালটিতে আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে তিন শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেসরকারি হাসপাতালে আরও প্রায় দুই শতাধিক ডায়রিয়া রোগীকে প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মাদারীপুর জেলা থেকে আসা আক্তার শেখ জানান, তার দুটি শিশু বাচ্চার গত এক সপ্তাহ ধরে বমি ও পাতলা পায়খানা হচ্ছে। মাদারীপুর থেকে দুই শিশুকে ফরিদপুরে পাঠিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
তিনি আরও জানান, কোন উপায় না পেয়ে। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছি। রোগী অনেক, বেড পাওয়া যায় না। অনেক সময় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। তবে এখন একটু আগের থেকে সুস্থ আছে তার শিশুরা।
এ বিষয়ে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আগের চেয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেড়েছে। কোথাও কোথাও সেবা দিতে কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে এর প্রভাব পড়ছে। শিশুদের বাসি-পচা খাবার দেওয়া পরিহার করতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে। সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে শিশুদের।