রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন

৫ মামলায় কারাগারে দেলোয়ার, সুমনের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় সামছুদ্দিন সুমন নামে এজাহারভুক্ত এক আসামির ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এ সময় ওই একই মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেনকে আরও ৫টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

অপরদিকে, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাশফিকুল হক এসব আদেশ দেন।

এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা পিবিআই আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে। এর মধ্যে সামছুদ্দিন সুমনের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে আদালত শুনানি শেষে তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখে স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা। এরপর গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ করে।

ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, নির্যাতনকারীরা ওই গৃহবধূর পোশাক কেড়ে নিয়ে তার বিরুদ্ধে কিছু একটা বলতে থাকে। তিনি প্রাণপণে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন এবং হামলাকারীদের ‘বাবা’ ডাকেন, তাদের পায়ে ধরেন। কিন্তু, তারা ভিডিও ধারণ বন্ধ করেনি। বরং হামলাকারীরা তার মুখে, শরীরে লাথি মারে। এরপর তার শরীরে একটা লাঠি দিয়ে মাঝে মাঝেই আঘাত করতে থাকে। এসময় ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার উল্লাস প্রকাশ করে ‘ফেসবুক’ ‘ফেসবুক’ বলে চিৎকার করে আরেকজন।

এদিকে এ ঘটনার পর অভিযুক্ত স্থানীয় দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও তাদের সহযোগীরা নির্যাতিতা গৃহবধূর পরিবারকে কিছু দিন অবরুদ্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে তার পুরো পরিবারকে বসত বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করে। এ কারণে ঘটনাটি স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ প্রশাসনের অগোচরে থাকে।

তবে ওই ভিডিও চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার ৩২ দিন পর রোববার (৪ অক্টোবর) গৃহবধূকে নির্যাতনের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেলে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের।

লাইটনিউজ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD