যে কোন বয়সের শিক্ষার্থীদের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা কোর্সে ভর্তির সুযোগ রেখে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের শামিল উল্লেখ করে তা আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে প্রত্যাহার করে পুন:বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও পলিটেকনিক শিক্ষক-ছাত্র নেতৃবৃন্দ।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আজ (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় আগারগাঁওস্থ ডিটিই ও বিটিইবি ভবন সংলগ্ন সড়কে বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদ (বাকাছাপ), বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতি (বাকাছাপ) ও বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স সার্ভিস এসোসিয়েশন সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধন থেকে নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক ভর্তি নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে পুরো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হবে, যা কারিগরি শিক্ষায় সরকারের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করবে। তারা বলেন, ১৫/২০ বছর পূর্বে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর পক্ষে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিষয়গুলো অনুধাবন করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না।
এদের অধিকাংশই ১/২ বছরের মধ্যে ঝরে যাবে। সিটগুলো শূন্য হবে, ড্রপ আউট আরো বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বয়সের ব্যাপক পার্থক্যের কারণে শ্রেণীকক্ষের ভারসাম্য নষ্ট হবে, খুন-চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের কারণে সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যা দেখা দেবে। বক্তাগণ বলেন, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বিদ্যমান আসন সংখ্যার চেয়ে ২/৩ গুণ বেশী ভর্তি আবেদন জমা পড়ে, সেখানে অনিয়মিত বয়বৃদ্ধদের ভর্তির সুযোগ দিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে বিপদসংকুল করা যুক্তিযুক্ত হতে পারে না।
মানববন্ধন থেকে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন-২০১৮ এর ৮(ঙ) ধারায় দেয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে বোর্ডের চেয়ারম্যান ভর্তি সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে পারলেও কোন অদৃশ্য অপশক্তির কারণে সেটি করেন নাই, তার জবাব তাকে দিতে হবে।
মানববন্ধনে উল্লেখ করা হয়-করোনার মহাদুর্যোগে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এখন নানানভাবে বিপর্যস্ত।
পলিটেকনিকে দীর্ঘদিন শিক্ষক সংকট, শ্রেণীকক্ষ, ল্যাব, ওয়ার্কসপের সমস্যার সমাধান না করে বিতর্কিত ভর্তি নীতিমালা গ্রহণের ফলে ব্যাপক ছাত্র অসন্তোষ দেখা দেবে, যা শিক্ষার্থীদের আরো অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করবে। এর দায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বোর্ড এড়াতে পারবে না। বিতর্কিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার না করলে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে মর্মে হুশিয়ারি দেন, যার দায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নিতে হবে।
সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আইডিইবি’র সভাপতি এ কে এম এ হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের সভাপতি মো. খবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আব্দুল মোতালেব, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স সার্ভিস এসোসিয়েশন সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাফিজ আহমেদ সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক এ এম জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লা এবং শতাধিক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স সার্ভিস এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন শেষে স্ব স্ব সংগঠনের পক্ষে পুনঃভর্তি বিজ্ঞপ্তির যৌক্তিকতা তুলে ধরে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।