শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় রেমালের তাণ্ডব, বিদ্যুৎহীন ৬ লাখ মানুষ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৭ মে, ২০২৪

সাতক্ষীরার উপকূলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে তার ছিড়ে ও সঞ্চালন লাইনে গাছপালা উপড়ে পড়ে জেলার ছয় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন রয়েছে।

জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে রোববার (২৬ মে) সকাল থেকেই জেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার প্রায় অধিকাংশ এলাকায় সারা দিনই বিদ্যুৎ ছিল না। অন্যান্য এলাকাতেও বিদ্যুৎ ছিল আসা-যাওয়ার মাঝে।

তবে জেলা সদরের পৌর শহরে রোববার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছিল। ঝড়ে সঞ্চালন লাইনে গাছপালা উপড়ে পড়ায় রাত ১১টার পর পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

রোববার রাতে সাতক্ষীরা উপকূলের বুড়িগোয়ালীনি এলাকায় অবস্থান করা সাংবাদিক আসাদুজ্জামান জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমাল জেলাজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। অনেক গাছপালা উপড়ে গেছে। জোয়ারে মাছের ঘের ভেসে গেছে। তবে সুন্দরবনের এবারও রক্ষা করেছে। বাতাসের গতিবেগ অনেক কমিয়ে দিয়েছে।

সাতক্ষীরার স্থানীয়রা বলেন, রেমালের কবল থেকে সাতক্ষীরার উপকূল এখন প্রায় বিপদমুক্ত বলা যায়। শুধু বেড়িবাঁধের দিকে খেয়াল রাখতে হবে যেন নদীর পানি ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।

কালিগঞ্জ এলাকার ওলিউর রহমান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে আবারও সুন্দরবন বুক চিতিয়ে রক্ষা করলো আমাদের সাতক্ষীরা উপকূলকে।

সাতক্ষীরা সদরের মমিনুর রহমান সবুজ বলেন, রেমালের তাণ্ডবে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গা বাজারের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

শ্যামনগরের সুলতান শাহজাহান বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল সাতক্ষীরা উপকূলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। অনেক গাছগাছালি উপড়ে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এখনো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বয়ে চলছে। নদ-নদীগুলো এখনো উত্তাল। জোয়ারের পানি এখনো কমেনি।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি নরম হয়ে গেছে। ভাটিতে পানি কমার কথা থাকলেও পানি কমছে না। এতে অনেক এলাকায় বাঁধে ফাটল দেখা দিতে পারে। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটা জানা যায়নি।

উপকূলের জান্নাতুল নাইম বলেন, নেটওয়ার্ক সমস্যা ও মোবাইলে চার্জ না থাকায় সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। শরুব ইয়ুথ টিম সদস্যরা সবাই উপকূলবাসীর পাশে রয়েছেন।
সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ার রহমান বলেন, আমাদের ৫৬ হাজার গ্রাহক। ঘূর্ণিঝড় রিমালে মূল সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ায় এবং কয়েকটি খুঁটি ভেঙে পড়ায় রোববার রাত ১১টার পর থেকে
বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ঝড় থামার পরপরই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। ১১টি ফিডারের মধ্যে আটটি চালু করতে পেরেছি। ৫৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৪০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে পেরেছি। বাকিদের বিদ্যুৎ সরবরাহে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ঝড়ে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এখনই বলা হচ্ছে না। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আমরা কাজ করছি।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। যার ফলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ছিল সেটি নামিয়ে স্থানীয় তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মতিউর রহমান সিদ্দিকী জানান, গভীর রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কের ওপর ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে অনেক গাছগাছালি ভেঙে পড়ে। ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ওই সময়ই শ্যামনগর থানা পুলিশের ওসির নেতৃত্বে পুলিশ দা-কুড়াল ও করাত দিয়ে গাছ কেটে রাস্তা যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত করে তোলা হয়।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD