শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের জন্য আরও ৬১১৮ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করলো বিশ্বব্যাংক

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫

চলতি মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশে বৈদেশিক অর্থছাড় ও অনুমোদন বাড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার চার প্রকল্পে বাংলাদেশকে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক(এডিবি)। প্রতি ডলার সমান ১২২ টাকা ২২ পয়সা ধরে বাংলাদেশী মুদ্রায় ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা।

এবার বাংলাদেশের জন্য নতুন করে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বাংলাদেশের সরকারি খাতের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা উন্নয়নে এই ঋণ দেবে।

প্রতি ডলার সমান ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা ধরে শনিবার (২১ জুন) বাংলাদেশী মুদ্রায় নতুন অনুমোদিত এই ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ১১৮ কোটি টাকা।

সংস্থাটি জানায়, সরকারের শাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিস্থাপকতা উন্নয়নে এই ঋণ সহায়তা করবে। সরকারি ও আর্থিক খাতের সংস্কারকে সমর্থন করবে এই ঋণ, যা টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সংস্কারগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য উন্নত পরিষেবার ভিত্তিও স্থাপন করবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন বলেন, সরকার তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উন্মুক্ত এবং জবাবদিহিতামূলক করার জন্য উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেন তারা জনগণকে আরও ভালো সেবা দিতে পারে। এই অর্থায়ন সরকারের নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে যাতে একটি শক্তিশালী, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা যায়। যা সবার উপকার করে। গত সপ্তাহে অনুমোদিত আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে, আমরা এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করছি।

সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে, মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে কম, যা জনগণের কাছে মানসম্পন্ন পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করে। এই কর্মসূচি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহের উন্নতির লক্ষ্যে সংস্কারগুলোকে সমর্থন করে। এই সংস্কারগুলো আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে কর প্রশাসন এবং নীতি নির্ধারণকে আরও স্বচ্ছ এবং দক্ষ করে তুলবে। এছাড়াও, এটি কর ছাড় পরিচালনার জন্য আরও কৌশলগত, নিয়মতান্ত্রিক এবং স্বচ্ছ পদ্ধতিতে যাওয়ার জন্য সংস্কারগুলোকে সমর্থন করবে যার জন্য সমস্ত ছাড়ের জন্য সংসদীয় অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা বলেন, এই অর্থায়ন নাগরিকদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও শাসনব্যবস্থা এবং সরকারি খাতের কর্মক্ষমতা উন্নত করার জন্য বাংলাদেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কারকে সমর্থন করি। তথ্য ব্যবস্থার উন্নতি এবং সুবিধাভোগীদের উন্নত নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে সরকারি সম্পদ কার্যকরভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোতে পৌঁছাবে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়।

এই অর্থায়নের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রতি মোট নতুন প্রতিশ্রুত ঋণ ৩ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সহায়তাকারী অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশকে ৪৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান, সুদমুক্ত এবং ছাড়মূলক ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD