বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত গাড়ি থেকে টাকা জব্দের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে লাইভে এসে বিষয়টিকে সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যমূলক ও বিভ্রান্তমূলক বলে জানান তিনি।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আমি লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত রয়েছি। এর মধ্যে আমি শুনতে পেলাম যে আমার নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত যে গাড়ি, সে গাড়ি চেক করেছে। প্রকৃতপক্ষে যে নিউজ সেটি হলো, আমার নির্বাচনি এজেন্ট সেই গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সেখানে আমার যে ব্যয়, তার মধ্যে ১৫ লাখ টাকা কেন্দ্রভিত্তিক দেওয়ার জন্য নিয়ে যান আমার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেটা চেক করেছে এবং কোর্ট থেকে ইতোমধ্যে সেটা রিলিজও করেছে যে হ্যাঁ এটা কেন্দ্র ফি বাবদ ব্যবহার হচ্ছে। সুতরাং কোনো ধরনের বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। যারা এটা নিয়ে নিউজ করছেন, আমি মনে করি সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যমূলক এবং বিভ্রান্তিমূলক। আমার ইমেজ ক্ষুণ্ন করার জন্য এ ধরনের নিউজ করা হচ্ছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
এর আগে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নির্বাচনি গাড়ি থেকে বিপুল টাকাসহ ব্যক্তিগত সহকারী এবং খালাতো ভাই বদরুল আলম শ্যামলকে আটক করে সেনাবাহিনী।
তখন তথ্যটি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির সদস্য তাহমিনা আক্তার নওরিন।
পরে আধা ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তার সহকারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, সন্ধ্যায় জেলা সদরের ঝুমুর গোলচত্বর এলাকায় লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির ব্যক্তিগত সহকারী বদরুল আলম শ্যামলের গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। শ্যামল এ্যানি চৌধুরীর খালাতো ভাই। তার গাড়িটি এ্যানি চৌধুরীর নির্বাচনি গাড়ি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য তাহমিনা আক্তার নওরিন জানান, এ ঘটনায় সহকারীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে আধা ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
পরে গাড়িসহ টাকা আটক রেখে শ্যামলকে সাময়িক ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দলীয় একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি লাইভে এসে ঘটনার বিষয়ে পরিষ্কার করেন।