পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এছাড়াও ভারতের ভিসার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং বিষয়টিকে ভারত ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
সোমবার( ১৩ এপ্রিল) সচিবালয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এসব কথা জানিয়েছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা বলেছি মেডিকেল ভিসাটা উন্মুক্ত করে দিতে উনারা সেটা ইতিবাচকভাবে রিসিভ করেছেন।
আশা করি আগামীতে ওই দিক থেকে একটা পজিটিভ উদ্যোগ আমরা দেখতে পাবো।
শেখ হাসিনা সেখানে আছেন এ বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে বিষয়টি আমরা তুলেছি।
যেহেতু এটা বাংলাদেশের জনগণের, পাবলিক ইন্টারেস্ট। সে তো একজন স্বৈরাচার, দেড় হাজার মানুষ হত্যা করে ভারতে পালিয়ে গেছে ।
আমি বলি, তাকে নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি, আওয়ামী লীগ, হাসিনা বলতে বাংলাদেশে এখন আর কিছু নাই। আইনগতভাবে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়গুলো আমরা দেখব ।
জ্বালানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি নিয়ে তাদের সহযোগিতা আমরা কিছু পেয়েছি, পাইপ লাইনে আছে। এবং সহযোগিতা যেখানে লাগবে ওখানে আমরা আরও সহযোগিতা পাব।
দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মাইন্ড সেট যদি ঠিক থাকে তাহলে আমরা ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হতে পারব। কিছু চ্যানেল তো থাকবে। পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী যখন ওখানে আছে শেখ হাসিনা। চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। এই চ্যালেঞ্জের ভিত্তিতে কিভাবে আমরা অন্য কাজগুলা দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে পড়ে সেগুলো আমরা এগিয়ে নেবে। আর হাসিনার ব্যাপারে তো সবসময় আমাদের দাবি থাকবে ফিরিয়ে দিতে। ওইখান থেকে যাতে কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রম না করে সেটা আমরা জোরালো আলোচনায় রাখবো । আমার মনে হচ্ছে এই সফরটা মোটামুটি ভালো ফলপ্রসূ হয়েছে।
অপর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যেখানেই আমরা সম্পর্ক করব, বিএনপি সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের সরকার দেশের মানুষের দুই তৃতীয় অংশে ভোটে নির্বাচিত। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে যদি আপনার দেশের মানুষের ম্যান্ডেড না থাকে, আমাদের এটা আছে আমরা বড় গলার কথা বলতে পারি। কনফিডেন্স নিয়ে কথা বলতে পারি কারণ দেশের মানুষ আমাদের পক্ষে আছে। যেটা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল না আর হাসিনার তো গত ১৫ বছর ছিলই না। ডিজে নির্বাচিত সরকার এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার জন্য। আমাদের এই সরকারের যেটা আছে। বাংলাদেশকে বিক্রি করে বিএনপি সরকার কিছুই করবে না, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিয়েই কাজ করবে। দ্বিপাক্ষিক হোক, বহুপাক্ষিক হোক বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সবসময় প্রাধান্য দেব।