শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন

এবার স্পেন ও ট্রিস্টান দা কুনহায় হান্টাভাইরাস শনাক্ত

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

বিলাসবহুল প্রমোদতরি থেকে শুরু হওয়া হান্টাভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ দেখা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এর সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে তৎপর হয়েছেন। এরই মধ্যে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও দুই সন্দেহজনক রোগীর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ মে) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ থেকে নামার পর এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়েছেন। আরেক নারী অসুস্থ হন বিমানে এক সংক্রমিত ক্রুজ যাত্রীর পাশে বসার পর। স্পেন ও দক্ষিণ আটলান্টিকের দূরবর্তী দ্বীপ ট্রিস্টান দা কুনহায় ঘটা এই দুটি ঘটনাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ‘এমভি হন্ডিয়াস’ জাহাজে আক্রান্ত আটজনের তালিকার বাইরে আলাদাভাবে দেখছে।

স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের আলিকান্তে প্রদেশের ৩২ বছর বয়সি এক নারীর দেহে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাভিয়ের পাডিলা সাংবাদিকদের জানান, ওই নারী বিমানে অল্প সময়ের জন্য একজন ডাচ নারীর দুই সারি পেছনে বসেছিলেন। ওই ডাচ হন্ডিয়াস বিমানে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২৫ এপ্রিল বিমানটি উড্ডয়নের আগে জোহানেসবার্গে অসুস্থ বোধ করায় ওই নারী ফ্লাইট থেকে নেমে যান এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।

ব্রিটেনের ট্রিস্টান দা কুনহা দ্বীপে এক ব্রিটিশ ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ করা হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনি হন্ডিয়াস জাহাজের একজন যাত্রী ছিলেন।

জাহাজটির আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে এক ডাচ দম্পতি ও একজন জার্মান নাগরিক ছিলেন। সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া আরও চারজনের মধ্যে দুইজন ব্রিটিশ, একজন ডাচ ও আরেকজন সুইচ নাগরিক। তারা যথাক্রমে নেদার‌ল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সুইজারল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ রয়েছেন।

কী বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন আটটি ঘটনার মধ্যে ছয়টিতে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এই ভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। জাহাজটি থেকে দূরে নতুন সংক্রমণের খবর ভাইরাসটির ব্যাপক বিস্তারের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি বেশি নয় এবং ভাইরাসটি সহজে ছড়ায় না।

ডব্লিউএইচও’র ভাইরাসজনিত হুমকি বিষয়ক কারিগরি কর্মকর্তা আনাইস লেগান্ড অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘এই প্রাদুর্ভাবের গতিপ্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে অর্থাৎ জাহাজের আরোহী এবং অবতরণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এটি যেভাবে ছড়াচ্ছে বা ছড়াচ্ছে না, তার ওপর নির্ভর করে আমরা সাধারণ জনগণের জন্য ঝুঁকিকে কমই বিবেচনা করছি।’

সংস্থাটির মতে, পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে হন্ডিয়াসের প্রাদুর্ভাবটি অ্যান্ডিস ভাইরাসের কারণে ঘটেছে। এই ভাইরাসটিই একমাত্র হান্টাভাইরাস প্রজাতি যা ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে সীমিত আকারে ছড়াতে সক্ষম বলে জানা যায়।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। গত সপ্তাহের শুরুতে জাহাজের যাত্রীদের মধ্যে গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার কয়েকটি ঘটনা প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানানো হয়। তখন জাহাজটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ও নাবিক ছিলেন।

ততক্ষণে আরও ৩৪ জন যাত্রী জাহাজটি থেকে নেমে গিয়েছিলেন। জাহাজটি মার্চ মাসে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং অ্যান্টার্কটিকা ও অন্যান্য স্থানে থেমে আফ্রিকার পশ্চিমে কেপ ভার্দের উপকূলীয় জলসীমার দিকে উত্তর দিকে রওনা হয়েছিল। প্রাদুর্ভাবের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জাহাজটিকে সেখানে অল্প সময়ের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD