পশ্চিমবঙ্গে গরু ও মহিষ জবাইয়ে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের জারি করা নোটিশ বহাল রেখেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। এতে করে এবার কার্যত রাজ্যটিতে ঈদে গরু ও মহিষ কোরবানির পথ বন্ধ হয়ে গেলো। যা সেখানকার হিন্দু ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক বড় ধাক্কা।
গত ১৩ মে বিজেপি সরকার একটি নোটিশ জারি করে। এতে তারা বলে, ১৯৫০ সালের আইন ও ২০১৮ সালে হাইকোর্টের দেওয়া রায় কড়াকড়িভাবে মানতে হবে। অর্থাৎ অনুমতি ছাড়া মহিষ ও ১৪ বছরের কম বয়সী গরু জবাই করা যাবে না।
রাজ্য সরকারের জারি করা এই নোটিশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে আপিল করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আপিল খারিজ করে দেন।
তারা তাদের রায়ে বলেন, গরু জবাই করা কোরবানির কোনো অংশ নয়। অন্য পশু দিয়েও কোরবানি দেওয়া যায়।
বিজেপি সরকারের জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে ফিটনেস সার্টিফিকেট বা অনুমতি ছাড়া কোনো গরু-মহিষ জবাই করা যাবে না।
তারা বলেছে, সার্টিফিকেট ছাড়া গরু-মহিষ জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর এ সার্টিফিকেট দেবেন পৌরসভার প্রধান অথবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। সঙ্গে সার্টিফিকেটে সরকারি ভেটেনারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকতে হবে।
কেউ যদি গরু-মহিষ জবাইয়ের অনুমতি নিতে চান তাহলে তাকে প্রমাণ দিতে হবে তার পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি এবং এটির কর্ম ও প্রজনন ক্ষমতা আর নেই। এরপর বিষয়টি লিখিত আকারে উল্লেখ করে ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে।
তবে কোনো পশু যদি বয়সের ভারে আর চলাফেরা না করতে পারে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়, অঙ্গবিকৃতি ঘটে অথবা অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে সার্টিফিকেট নিয়ে ১৪ বছর হওয়ার আগেই এটি জবাই করা যাবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাস্তার ধারের সব কসাইখানাও বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এখন থেকে শুধুমাত্র পৌরসভা অথবা স্থানীয় প্রশাসনের ঠিক করা কসাইখানায় গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে।
যদি কেউ অনুমতি ছাড়া পশু জবাই করেন তাহলে ১৯৫০ সালের আইন অনুযায়ী ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা এক হাজার রুপি অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে