শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন

ড্রোন উৎপাদনসহ সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করছে ইরান

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত পুনর্গঠন করছে ইরান। বিশেষ করে চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দেশটি আংশিকভাবে ড্রোন উৎপাদন পুনরায় চালু করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার এবং গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। চারটি পৃথক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুনরায় কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনার গতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরান পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নির্ধারিত সব সময়সীমাকেই অতিক্রম করেছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই পূর্ণমাত্রায় ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো নতুন করে উদ্বেগে পড়েছে। কারণ, ভবিষ্যতে যুদ্ধ আবার শুরু হলে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে ইরান আরো বেশি ড্রোন ব্যবহার করতে পারে।

দক্ষিণ লেবাননের একাধিক স্থানে ইসরাইলি হামলাদক্ষিণ লেবাননের একাধিক স্থানে ইসরাইলি হামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারো সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, নতুন করে বোমা হামলা শুরুর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলেন।

গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, ইরানের দ্রুত পুনর্গঠনের পেছনে রাশিয়া ও চীনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে চীন যুদ্ধ চলাকালেও ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ করেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য উল্লেখ করেছে। যদিও চলমান মার্কিন অবরোধের কারণে সেই সরবরাহ বর্তমানে সীমিত হয়ে থাকতে পারে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি দাবি করেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের উপাদান দিচ্ছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি তথ্য সঠিত নয়।

সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে। এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। পরবর্তী এক প্রতিবেদনে সেই সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশে উন্নীত করা হয়। যুদ্ধবিরতির সময় ইরান ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া লঞ্চার উদ্ধার করতে সক্ষম হওয়ায় এই সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ এখনো কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। দেশটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশও অক্ষত আছে, যা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার মঙ্গলবার কংগ্রেসে দাবি করেন, অপারেশন এপিক ফিউরি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে দুর্বল করেছে এবং দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পঘাঁটির ৯০ শতাংশ ধ্বংস করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে ইরান বহু বছর ধরে আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে কুপারের বক্তব্যের স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। দুটি সূত্র বলেছে, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প পুনর্গঠনে বিলম্ব হতে পারে কয়েক মাস, কিন্তু কয়েক বছর নয়। এছাড়া ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের কিছু অংশ এখনো অক্ষত থাকায় নির্দিষ্ট সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD