সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী বেতনের ১০ শতাংশ গরিবদের জন্য সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে দেন ‘আমার লাশ যেন এফডিসিতে না যায়’—রোজিনার হৃদয়ভাঙা আবেদন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই : অর্থমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন হলেও সম্ভব: গালিবাফ গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জুলাই শহীদদের কতবার শহীদ করা আমরা সহ‍্য করব দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন খামেনির শোক অনুষ্ঠান : তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‘আমার লাশ যেন এফডিসিতে না যায়’—রোজিনার হৃদয়ভাঙা আবেদন

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

একজন শিল্পীর জীবনে কর্মস্থল শুধু কাজের জায়গা নয়, সেটিই হয়ে ওঠে স্মৃতির ভান্ডার, ভালোবাসার ঠিকানা। যে এফডিসির আলো-ছায়ায় কেটেছে কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা রোজিনার জীবনের অসংখ্য বছর, সেই জায়গাকেই শেষ বিদায়ের তালিকা থেকে বাদ দিতে বলেছেন তিনি।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রোজিনার কণ্ঠে ছিল না ক্ষণিকের আবেগ, ছিল দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মৃত্যুর পর যেন তার মরদেহ এফডিসি প্রাঙ্গণে না নেওয়া হয়। কারণ হিসেবে বলেছেন, আজকের এফডিসিতে তিনি আর সেই সম্মান, মূল্যবোধ কিংবা শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ খুঁজে পান না।

রোজিনার কথায়, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনে হারার প্রতিক্রিয়া নয়। বরং অনেক আগেই পরিবারের সদস্যদেরও তিনি একই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। তার বিশ্বাস, যে জায়গা একসময় শিল্পীদের আপন ঠিকানা ছিল, সেখানে এখন সেই আন্তরিকতা আর নেই।

রবিবার রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন, চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন এই বরেণ্য অভিনেত্রী। রোজিনার অভিযোগ, এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল না। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি বিভিন্ন ধরনের অসংগতি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করেন।

এফডিসির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে রোজিনা বলেন, ‘এফডিসি এখন আর আগের মতো নেই।’ কথা বলতে গিয়ে তিনি স্মরণ করেন প্রয়াত নায়করাজ রাজ্জাককেও। রোজিনার দাবি, তিনিও জীবদ্দশায় অভিমান করে একই ধরনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি যেন আরও গভীর করেছে তার নিজের কষ্ট। তবু এফডিসির প্রতি তার সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। সরকারি অনুষ্ঠান বা পেশাগত দায়িত্বে প্রয়োজন হলে তিনি যাবেন। কিন্তু নিছক টান থেকে আর সেখানে পা রাখতে চান না।

রোজিনার এই বক্তব্য কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি যেন দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে একজন প্রবীণ শিল্পীর নীরব আর্তনাদ। যে শিল্পী একসময় এফডিসিকে নিজের স্বপ্নের ঠিকানা বানিয়েছিলেন, তিনিই আজ শেষ বিদায়ের পথ থেকেও সেই ঠিকানাকে সরিয়ে দিতে চাইছেন। একজন শিল্পী কতটা অভিমান, কতটা কষ্ট আর কতটা বঞ্চনার অনুভূতি বুকে জমিয়ে রাখলে এমন একটি কথা বলতে পারেন— সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চলচ্চিত্র অঙ্গনজুড়ে।

 

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD