রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন

ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’, চীনে নিরাপদ আশ্রয়ে ৬ লাখের বেশি মানুষ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’র প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ৬ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ‘সুপার টাইফুন’ থেকে এর শক্তি কিছুটা কমলেও এটি এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে পাঁচ লাখের বেশি এবং পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে আরও প্রায় এক লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে এবং তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল ঘেঁষে অগ্রসর হওয়ার পর টাইফুনটি বর্তমানে চীনের দিকে ধেয়ে আসছে। রোববার ভোরে ঘনবসতিপূর্ণ ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরের উপকূলে এটি আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা টাইফুনের জন্য চার স্তরের সতর্কতার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, রেল যোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং বহু স্কুল ও ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না তুরস্কইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না তুরস্ক
ওয়েনঝৌর বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী হুয়াং শিংহুয়ান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, কিছুটা উদ্বিগ্ন হলেও আমি মনে করি আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব। তিনি জানান, তাদের পরিবার দুই থেকে তিন দিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও পানির মজুত করেছে। অতীতেও তারা একাধিক টাইফুনের মুখোমুখি হয়েছেন এবং এবারও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবেন বলে আশাবাদী।

ফুজিয়ান প্রদেশের নিংদে শহরে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা থেকে তিন হাজার ৭০০–এর বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ১৭ হাজারের বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় টাইফুন ‘বাভি’র শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এর বৃষ্টিবাহী মেঘমালায় বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা থাকায় ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।

এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আঘাত হানা ট্রপিক্যাল স্টর্ম ‘মেইসাক’-এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এখনো লড়ছে চীনের দক্ষিণাঞ্চলের হাইনান ও গুয়াংশি অঞ্চল। গুয়াংশির নানিং শহরে একটি বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ৩৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD