ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলবে এবং প্রয়োজন হলে এই স্থাপনাটিও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সোমবার হিউ হিউইট শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পিক্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করব। ইরানকে প্রস্তুত থাকতে বলুন।’
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই স্থাপনাটির ওপর কড়া নজর রাখছে। সেখানে এখন বড় ধরনের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তবে প্রয়োজন হলে খুব শিগগিরই সেখানে হামলা চালানো হতে পারে।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প ইরানি জাহাজের ওপর আবার নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা থাকবে, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জাহাজগুলোকে ফি দিতে হবে।
পিক্যাক্স মাউন্টেন ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে নির্মাণাধীন একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এত গভীরে তৈরি করা হচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমাও সেখানে পৌঁছাতে পারবে না।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, স্থাপনাটির নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর আওতায় ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করে হামলা চালায়।
তবে ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির মতে, পিক্যাক্স মাউন্টেন ফোরদোর চেয়েও প্রায় ২ হাজার ফুট বেশি গভীরে গ্রানাইট পাথরের স্তরের মধ্যে অবস্থিত। তাই বর্তমান বাঙ্কার-বাস্টার বোমা দিয়েও এর ভেতরের অংশে আঘাত করা কঠিন।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা জিনসার নীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেইস মিসজটাল বলেন, পিক্যাক্স মাউন্টেন ফোরদোর তুলনায় আরও গভীর, বড় এবং বেশি সুরক্ষিত। তার মতে, ভবিষ্যতে ইরান এখানেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।