মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

প্রথমবার ‘কামিকাজে ড্রোন বোট’ দিয়ে ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মানবহীন ‘কামিকাজে ড্রোন বোট’ ব্যবহার করে ইরানের নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে বন্দর আব্বাস নৌঘাঁটির সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে তিনটি ড্রোন বোট দিয়ে হামলা চালানো হয়।

এটি যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর প্রথম সমুদ্র ড্রোন ব্যবহার। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলায় ইরানের নৌ-সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে।

সেন্টকম প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন বোট বন্দর আব্বাস নৌঘাঁটির জেটির দিকে এগিয়ে গিয়ে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। মার্কিন বাহিনী অভিযানটিকে সফল বলে দাবি করেছে।

মূলত এই হামলা ইউক্রেনের ব্যবহৃত কামিকাজে সামুদ্রিক ড্রোন কৌশলের সঙ্গে মিল যায়। ইউক্রেন কৃষ্ণসাগরে রুশ যুদ্ধজাহাজে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। এর পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের মার্চে টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সায়রোনিক টেকনোলজিসের তৈরি ‘সায়রোনিক করসেয়ার ইউএসভি’ ড্রোন বোট তাদের নৌবাহিনীতে যুক্ত করে। মধ্যপ্রাচ্যে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই এটি মোতায়েন করা হয়েছিল।

সেন্টকমের দাবি, তিনটি করসেয়ার ড্রোন বোট বন্দর আব্বাসে আঘাত হেনেছে। এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের নৌ-সক্ষমতা কমে গেছে।

২৪ ফুট লম্বা এই ড্রোন বোট ঘণ্টায় প্রায় ৪০ মাইল গতিতে চলতে পারে। এটি প্রায় ১ হাজার পাউন্ড বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম এবং প্রায় ১ হাজার নটিক্যাল মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ইরান প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়, যদিও যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করে।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানি জাহাজের ওপর আবারও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে নিরাপত্তা বাবদ ফি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না।

এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ট্রাম্পের টোল আদায়ের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক টোল আরোপের কোনো আইনি ভিত্তি আন্তর্জাতিক আইনে নেই।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD