মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে যে শর্ত দিল ইরান

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত দিল ইরান।

তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

জাপানের কিয়োদো নিউজ ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পৃথকভাবে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

কিয়োদো প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে থমকে থাকা আলোচনা আবার শুরু করতে তেহরান কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে। ইরানের প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ নিলে ইরান এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দিতে প্রস্তুত। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু করার কথাও বলা হয়েছে।

তবে রয়টার্স ও কিয়োদোকে বক্তব্য দেওয়া ওই দুই কর্মকর্তা একই ব্যক্তি কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনকে কূটনীতির সুযোগ দেখছে তেহরান
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কূটনীতিতে ফিরে আসার একটি ‘সুবর্ণ সুযোগ’। তবে তেহরান আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত থাকলেও ওয়াশিংটনকে তার আগ্রহের ‘বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ’ দেখাতে হবে।

ইরানের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। লক্ষ্য হলো নতুন করে আলোচনা শুরু করে দুই দেশের মধ্যকার চলমান শত্রুতার স্থায়ী অবসানের পথ খুঁজে বের করা।

হরমুজ নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। চলতি সংঘাতের আগে প্রতিদিন প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ- তেলবাহী ট্যাংকার ও গ্যাসবাহী জাহাজসহ- এই পথ দিয়ে চলাচল করত। সোমবার সেই সংখ্যা কমে মাত্র দু’টিতে নেমে আসে বলে প্রাথমিক জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্যে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রণালিটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ বাণিজ্য হয়ে থাকে।

ফলে ইরানের এই প্রস্তাব প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কিছুটা কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, খবরটি প্রকাশের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়।

ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের অপেক্ষায় তেহরান
ইরানের প্রস্তাবের মূল শর্ত হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক চাপ কমাতে হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে হবে। এরপরই হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত তেহরান।

কিয়োদোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই উদ্যোগ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থবির হয়ে থাকা আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা।

এর আগে চলতি বছরের জুনেও হরমুজ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতার প্রচেষ্টা হয়েছিল। সে সময় একটি প্রস্তাবিত সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা ছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে সংঘাত ও পারস্পরিক সামরিক পদক্ষেপের কারণে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।

এখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে তেহরানের নতুন প্রস্তাব দুই দেশের মধ্যে আবারও আলোচনার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করেছে। তবে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবে কীভাবে সাড়া দেবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সূত্র: আল-জাজিরা

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD