সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, কোথায় এটি ধ্বংস করা হয়েছে কিংবা এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।
GACA+1
ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে চারটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করে।
এ ঘটনায় সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স পূর্বাঞ্চল ও আল-খারজ এলাকায় সতর্কতামূলক বার্তা জারি করেছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানানো হয়।
পরবর্তী দিনগুলোতেও সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার খবর পাওয়া যায়। ২৯ অক্টোবর পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানায় জোট।
সৌদি-হুথি সংঘাতের পটভূমি
ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে হুথি বিদ্রোহীরা। ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে সীমান্তবর্তী হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোর কেন্দ্র হওয়ায় এ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।