শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন

‘ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কোনো আস্তানা বাংলাদেশে নেই’

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কোনো স্থান নেই।

বিজিবি মহাপরিচালক, বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানাকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ কখনো তার ভূমি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিশেষ করে ভারতের কোনো শত্রুপক্ষকে ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দিবে না। এ ব্যাপারে ভারতকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।

তার আগে বিএসএফ মহাপরিচালক সন্দেহভাজন ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজিবি ও বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনীর গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ধ্বংস করতে বিজিবির অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতরে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনের শেষ দিনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব নিয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে সন্ত্রাসীদের কোনো দেশ নেই মন্তব্য করে বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা বলেন, সীমান্তে প্রায় ৭০ ভাগ মৃত্যুই রাতের বেলা অর্থাৎ রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে ঘটে থাকে। এ সময়টাতে সাধারণত নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমই ঘটে থাকে। এ সময়টাতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসীরা বিএসএফ সদস্যদের চ্যালেঞ্জ করে বসে। এছাড়া রাতের বেলা আবহাওয়া অনুকূলে থাকে না, সবকিছু দৃশ্যমানও থাকে না।

তিনি বলেন, এমন ৬০ ভাগের বেশি ঘটনায় বিএসএফ সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন। ৫২ জন বিএসএফ সদস্য বিভিন্ন আক্রমণে আহত হয়েছেন। শুধু আক্রান্ত হলেই বিএসএফ লিথেল অস্ত্র ব্যবহার করে।

বিএসএফ প্রধান বলেন, ভারতীয় সীমান্ত ব্যবহার করে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মাদকের চালান প্রতিরোধে বিএসএফসহ ভারতীয় অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও সচেষ্ট রয়েছে। আমাদের সম্মিলতি তৎপরতায় সীমান্তে বিপুল পরিমাণ মাদক ধরা পড়ছে। মাদকের চালান শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতেও আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

আখাউড়া সীমান্ত দি‌য়ে পানি দূষণ নি‌য়ে বি‌জি‌বি প্রধান ব‌লেন, এটা আমা‌দের বিষয় না। এটা দুই দে‌শের মন্ত্রণালয়ের ব‌্যবস্থা নি‌তে হ‌বে। তারপ‌রও বিষয়‌টি আমা‌দের মাথায় আ‌ছে।

এবারের সম্মেলনে সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের গুলি, হত্যা ও আহত না করার বিষয়টি প্রাধান্য পে‌য়ে‌ছে। এ ছাড়া সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ, ইয়াবা, ভায়াগ্রা, সেনেগ্রা ট্যাবলেটসহ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বন্ধ, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক দ্রব্য পাচার, বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরে নিয়ে যাওয়া বা আটক, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, বাংলাদেশে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করানো, মানসিক ভারসাম্যহীন ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইন, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে উন্নয়নমূলক নির্মাণ কাজ, উভয় দেশের সীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ, বাংলাবান্ধা আইসিপিতে দর্শক গ্যালারি নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে যৌথ টহল পরিচালনা, রিজিয়ন ও ফ্রন্টিয়ার পর্যায়ের অফিসারদের নিয়মিত বৈঠক আয়োজন, পার্বত্য অঞ্চলে হিল ফ্লাইং প্রশিক্ষণ, অপারেশন পরিচালনা এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিরাজমান সৌহার্দ্য বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিজিবি সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে এ সম্মেলন শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সম্মেলনের যৌথ আলোচনার দলিল যৌথ রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি) স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়।

লাইটনিউজ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD