কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নিখোঁজের একদিন পর বাড়ির পাশ থেকে একসঙ্গে মাটিচাপা বাবা-মা ও শিশু পুত্রের লাশ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। এ সময় নিহতের ছোট ভাই দ্বীন ইসলামসহ চারজনকে আটক করা হয়।
তবে দ্বীন ইসলাম একাই তিনজনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
নিহতরা হলেন উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট কান্দাপাড়া গ্রামের আসাদ মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী পারভীন আক্তার (৪২) ও শিশুপুত্র লিয়ন (৭)।
দ্বীন ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকে জানায়, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনি একাই তিনজনকে হত্যা করেছেন। বুধবার রাত ১টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় শাবল দিয়ে বড় ভাই আসাদকে হত্যা করার পর ভাবি আসমা আক্তার ও ভাতিজা লিওনকে হত্যা করে। পরে ঘরের পাশেই একটি গর্ত খুঁড়ে প্রথমে গর্তে ভাই আসাদ পরে ভাবী এবং ভাতিজাকে রেখে মাটি চাপা দিয়ে রাখে।
নির্মম এ ঘটনাটি তিনি একাই ঘটিয়েছে বলে দায় স্বীকার করলেও পুলিশ অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আটক অন্যান্যদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন।
উল্লেখ্য, নিখোঁজের একদিন পর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার নিজ বাড়ির পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে বাবা-মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট কান্দাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি সংলগ্ন বাঁশঝাড় থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত থেকে ওই গ্রামের বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় তারা তিনজন। ওই রাতেই তাদের মেঝ ছেলে মোফাজ্জল এ ঘটনা কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশকে জানায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ওই বাঁশঝাড়ে নতুন মাটি দেখে সন্দেহ হয় ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা বড় ছেলে তোফাজ্জলের।
পরে খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় একই গর্ত থেকে নিখোঁজ এ তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্বীন ইসলাম একাই শাবল দিয়ে তিনজনকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখে বলে শিকার করেছে। আরও তদন্ত চলছে।
লাইটনিউজ