অর্থনৈতিক রিপোর্টার : প্রমোশনের নামে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপরতা গোয়েন্দা পুলিশের ‘সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন’। চটকদার বিজ্ঞাপনের মোড়কে, অনলাইন ক্যাসিনো বাণিজ্যর ওপর নজর রাখছে র্যাব। চটকদার এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনেই ব্যবস্থা নেয়া যায় বলছেন বিজ্ঞ আইনজীবীরা।
অনলাইন গেমের নামে ক্যাসিনো চালিয়ে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারসহ অনেকগুলো মামলায় এখন জেল খাটছেন সেলিম প্রধান। র্যাবের হাতে ধরা পড়ার পর বিচার চলছে তার।
প্রমোশন নাম দিয়ে এখন একই ধরণের অপরাধ করছে কয়েকটি অনলাইন কোম্পানি। অফার, কুইজ, লটারি- চটকদার এমন নানা নামে মানুষের পকেট কাটছে দারাজ, ই-ভ্যালিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। অপরাধ বিজ্ঞানীরা যাকে সরাসরি ‘জুয়া’ বলছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনলজি বিভাগের চেয়ারপার্সন খন্দকার ফারজানা রহমান জানান, বাংলাদেশের ভেতরে বিভিন্ন বড় অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিভিন্ন ছাড় দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু তাদের শর্তগুলো না মেনে বা না বুঝে অনেক ক্রেতা সেগুলো কিনে প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
নানা অফারের আড়ালে অনলাইনে ক্যাসিনো চালানো এসব কোম্পানির ওপর নজর রাখছে র্যাব। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ে পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, যারা অত্যন্ত স্বল্প মূল্যর অর্থের বিনিময়ে বিরাট একটি অফার দিয়ে থাকেন বা বিরাট একটি উপহারের ঘোষণা দিয়ে থাকেন বিভিন্ন মাধ্যমে, তাদের এ বিষয়টি আমাদের নজরদারির মধ্যে আছে। ভুক্তভোগীদের কাছে থেকে র্যাব এই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে, গোয়েন্দা পুলিশের ‘সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার জানালেন, অনলাইন কেনা-কাটায় প্রতারিত অনেকেই তাদের কাছে অভিযোগ জানাচ্ছেন।
নামমাত্র মূল্যে, কোটি টাকার পণ্যের লোভ দেখিয়ে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনেই ব্যবস্থা নেয়া যায় বলে জানালেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। তিনি বলেন, চটক বিজ্ঞাপন বা চটক লোটারির মাধ্যমে মানুষকে লোভে ফেলে এই প্রতারক চক্র। অনেকে মনে করেন এক টাকা দিলে কি হবে, কিন্তু ১০ কোটি মানুষ যদি ১ টাকা দেয় তাহলে ১০ কোটি টাকা হয়। কিন্তু পুরস্কৃত পণ্যর দাম হবে ৫০ লাখ বা এক কোটি টাকা। তাহলে বাকি টাকাতো সে লাভ করলো। কিন্তু এটাতো বৈধ আয় না। এই বিষয়ে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
মানুষের টাকা হাতিয়ে নেয়ার এমন প্রতারণা বন্ধ করা না হলে আরও অনেকে এতে উৎসাহিত হবে বলে আশঙ্খা করলেন তিনি।