শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লিবিয়ার জিম্মিদশায় ১১৯ মাফিয়ার মানব পাচার নেটওয়ার্ক মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানো নিয়ে সময়সীমা বেঁধে দিল বিআরটিএ দেশের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মেডিকেল ট্যুরিজমে থাইল্যান্ডে চমক সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা সোলায়মান মার্কিন অভিযানের তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করে হত্যা করা উচিত: ট্রাম্প ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট বাতিল, আটকা সাড়ে ১৫ হাজার যাত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব :স্বাস্থ্যমন্ত্রী আইএমএফের ঋণে শর্ত থাকবে, তা পূরণ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৯

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উভয়ই বেড়েছে। অক্টোবর মাসে ৩১৪টি দুর্ঘটনায় ৩৮৩ জন নিহত হয়েছিল। নভেম্বর মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪১৭ টি। নিহত ৪৩৯ জন এবং আহত ৬৮২ জন।

নিহতের মধ্যে নারী ৬৪, শিশু ৫৩। এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ১২৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৪১ জন, এই সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। ২৯ টি রেলপথ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩২ জন, আহত ৭ জন।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর ) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানানো হয়।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১১১ টি (২৬.৬১%) জাতীয় মহাসড়কে, ১৩৭ টি (৩২.৮৫%) আঞ্চলিক সড়কে, ১১৩ টি (২৭.০৯%) গ্রামীণ সড়কে, ৫১ টি (১২.২৩%) শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে (ফেরিঘাট, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ মাঠ ও ফসলের মাঠ) ৫ টি (১.১৯%) সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনাসমূহের ৯৭টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১০৫টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১২৬টি পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৭৬টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৩টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়ী- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২০.৮৯ শতাংশ, ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ৪.৬৪ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-এ্যাম্বুলেন্স-জীপ ৪.৪৯ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১১.৯০ শতাংশ, মোটরসাইকেল ১৯.৭৩ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু-স্কুটার) ২২.৬৪ শতাংশ, নসিমন-ভটভটি-আলগামন-পাখিভ্যান ৯.১৪ শতাংশ, রিকশা-ভ্যান, বাই-সাইকেল ৪.৯৩ শতাংশ এবং অন্যান্য (গ্যাসবাহী গাড়ি, গ্রামবাংলা, লাটাহাম্বা, ভ্যানগাড়ি) ১.৩০ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬৮৯টি। ট্রাক ১০৩, বাস ৮২, কাভার্ডভ্যান ১৮, পিকআপ ২৩, লরি ৭, ট্রলি ১৬, ট্রাক্টর ৯, মাইক্রোবাস ১৪, প্রাইভেটকার ৯, এ্যাম্বুলেন্স ৬, জীপ ২, গ্যাসবাহী গাড়ি ২, মোটরসাইকেল ১৩৬, নসিমন-ভটভটি-আলগামন-পাখিভ্যান ৬৩, ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু-স্কুটার ১৫৬, বাই-সাইকেল ৩, প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-স্কুলভ্যান ৩১ এবং পাওয়ারটিলার-গ্রামবাংলা-লাটাহাম্বা-ভ্যানগাড়ি ৯ টি।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৬.৯৫%, সকালে ৩৩.০৯%, দুপুরে ১৯.৬৬%, বিকালে ১৬.০৬%, সন্ধ্যায় ১২.৭০% এবং রাতে ১১.৫১%।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১১১ টি দুর্ঘটনায় নিহত ১২৮ জন। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। ২২টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জন। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ২৬টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত। সবচেয়ে কম ভোলা জেলায়। ৩টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ:

১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন;

২. বেপরোয়া গতি;

৩. চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা;

৪. বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা;

৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল;

৬. তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো;

৭. জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা;

৮. দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা;

৯. বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি;

১০ গণপরিবহণ খাতে চাঁদাবাজি।

সুপারিশসমূহ:

১. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে;

২. চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করতে হবে;

৩. বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে;

৪. পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে;

৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা তৈরি করতে হবে;

৬. পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে;

৭. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে;

৮. রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে;

৯. টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

১০. “সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮” এর সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনটি আরও জানিয়েছেন,দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার ক্রমেই উর্ধমুখী হচ্ছে। জাতীয় মহাসড়কে সবসময় দুর্ঘটনার হার বেশি থাকলেও নভেম্বর মাসে জাতীয় মহাসড়কের তুলনায় আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটরসাইকেল চালক ও পথচারী নিহতের ঘটনা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে অজ্ঞতা, অবহেলা এবং ট্রাফিক আইনের প্রয়োগহীনতা এর প্রধান কারণ।

রেল ক্রসিংয়ে ৪টি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। দেশে ৮২% রেল ক্রসিং অরক্ষিত, ফলে মাঝে-মধ্যেই ট্রেনের সঙ্গে সড়ক পরিবহনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব রেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক-সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখা গেলেও সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকারের আগ্রহ তেমন দৃশ্যমান নয়। জাতীয় স্বার্থেই এক্ষেত্রে সরকারকে কঠোর হতে হবে। মূলত সড়ক দুর্ঘটনারোধে নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং গণপরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা- উভয়ই জরুরি। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

লাইট নিউজ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD