শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

‘অদম্য ইরানিরা দুর্নীতিগ্রস্ত ট্রাম্পকে ভয় পায় না’

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেন মোহসেনি এজেই বলেছেন, “অটল ও অবিচল ইরানি জনগণ দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তার হুমকিকে তারা ভয় পায় না।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের জনগণ “পর্বতের মতো অটল ও অবিচল এবং তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল ভিত্তি রক্ষার অঙ্গীকার করেছে।”

তিনি আরও লেখেন, “আমাদের জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা এ ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদের হুমকিকে ভয় পায় না।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি জাতি তাদের ধর্ম ও মাতৃভূমির জন্য আত্মত্যাগের মধ্যেই মর্যাদা ও মুক্তির প্রকৃত অর্থ খুঁজে পায়।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার “দুষ্ট” প্রেসিডেন্টকে বুঝতে হবে যে, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত সমীকরণ আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।

বিচার বিভাগের প্রধান বলেন, “আল্লাহর সাহায্যে ইরান পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত জবাব দেয়।

মোহসেনি এজেই আমেরিকান নেতৃত্ব, বিশেষ করে তাদের “নিকৃষ্ট ও জঘন্য” প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে বলেন, তাদের মূল সমস্যা হলো তারা এখনও ইরানের সম্মানের অর্থ বুঝতে পারেনি।

তিনি বলেন, “একজন মুসলিম ইরানির জন্য মাতৃভূমি রক্ষা শুধু ভূমি রক্ষা নয়, বরং তা সম্মান, পরিচয় এবং এক মহান সভ্যতার উত্তরাধিকার রক্ষা করা।”

তিনি আরও বলেন, গত ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা ইরানের জনসমাবেশ প্রমাণ করে যে, জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো শত্রুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে “ধ্বংসাত্মক প্রতিশোধ” নিতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর ৪৭ বছর পেরিয়ে গেছে, যা জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে।

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও ইসলামি বিপ্লবের পথ এগিয়ে চলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে “অঘোষিত যুদ্ধ” শুরু করে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪” এর আওতায় ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায়, যেখানে শত শত ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়—যা পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি অবস্থানকে লক্ষ্য করে চালানো হয়।

৮ এপ্রিল, যুদ্ধের চল্লিশতম দিনে, ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনার প্রথম দফা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর “নৌ অবরোধ” আরোপ করে।

এরপর থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে ইরান আবারও শক্ত প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: প্রেসি টিভি

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD