নর্থ আমেরিকায় পর্দা উঠছে ইতিহাসের প্রথম তিন আয়োজক দেশের বিশ্বকাপের। যৌথভাবে আয়োজিত এই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হবে ম্যাচটি।
শক্তি ও সামর্থ্যে মেক্সিকোর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও স্বাগতিকদের বাড়তি সুবিধা নিয়ে একদমই চিন্তিত নন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোস। বরং ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে মেক্সিকোকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে প্রস্তুত বলেই জানিয়েছেন তিনি।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির মতোই আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও প্রতিপক্ষ ছিল মেক্সিকো। জোহানেসবার্গের সেই ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল। দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আবারও প্রথম ম্যাচেই মেক্সিকোর সামনে পড়ল আফ্রিকার দলটি।
উচ্চতাজনিত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ম্যাচের প্রায় ১০ দিন আগেই মেক্সিকোয় পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা দল। ব্রুশের বিশ্বাস, এই সময়টাই যথেষ্ট ছিল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মেক্সিকো খুব ভালো ফুটবল খেলে। তাদের দলে এমন অনেক মানসম্পন্ন ফুটবলার আছে, যারা যেকোনো সময় ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। নিজেদের দর্শকদের সমর্থনও তাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে।”
তবে স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদেরও পুরোপুরি প্রস্তুত দাবি করে তিনি বলেন, “উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের আগে আসতে হয়েছে। আমরা এখানে ১০ দিন সময় পেয়েছি এবং আমার মতে, এই সময় যথেষ্ট। সেই হিসেবে আমরা প্রস্তুত।”
খেলোয়াড়ি জীবনেও মেক্সিকোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে ব্রুশের। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের ফুটবলার হিসেবে মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচও ২-২ ড্র হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত দুই দলই বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই।
এবারের বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্য দুই প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক রিপাবলিক। ব্রুশ মনে করেন, নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে উদ্বোধনী ম্যাচেই ভালো ফল পাওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তার ভাষায়, “এমন গ্রুপে প্রথম ম্যাচ জেতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই পয়েন্ট হারালে পরের পথটা কঠিন হয়ে যাবে।”
দক্ষিণ আফ্রিকার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে মেক্সিকোর একটি হতাশাজনক পরিসংখ্যানও। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আটবার উদ্বোধনী ম্যাচ খেলতে নামছে মেক্সিকো। কিন্তু আসরের প্রথম ম্যাচে এখন পর্যন্ত একবারও জয়ের দেখা পায়নি তারা।