শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

ইরানের উপর্যুপরি হামলায় হরমুজ ছাড়লো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ারকে পিছু হটতে বাধ্য করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় পরিচালিত এই অভিযানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে বলে দাবি করেছে তেহরান।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি, বারবার সতর্ক করার পরও মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ায় ইরান কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

ইরানি কমান্ডারদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনীর দুটি পদক্ষেপকে ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রথমত, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে জাস্ক বন্দরের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।

দ্বিতীয়ত, তেহরানের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে আসে।
এর জবাবে আইআরজিসি অত্যন্ত সমন্বিত ও নিখুঁত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযানে জাহাজ বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ধ্বংসাত্মক ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানি বাহিনী সরাসরি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী অস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মার্কিন সামরিক সম্পদের ‘গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি’ নিশ্চিত হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের দাবি, ভয়াবহ হামলার মুখে টিকতে না পেরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো দ্রুত হরমুজ প্রণালি এলাকা ত্যাগ করে। এই ঘটনার মাধ্যমে ইরান আবারও প্রমাণ করেছে, নিজেদের জলসীমায় যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।

এদিকে, খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই ঘটনাকে মার্কিন ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বুঝতে হবে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব হবে শক্ত ও চূড়ান্ত।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: প্রেস টিভি

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD