দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। রাশিয়ার সহায়তায় কেন্দ্রটির আশপাশে স্থাপন করা হয়েছে ২৪টি অটোমেটেড ইমার্জেন্সি রেসপন্স মনিটরিং সিস্টেম (এইআরএমএস) স্টেশন।
এসব স্টেশনের মাধ্যমে বাতাস, পানি, মাটি, ঘাস, দুধ ও সবজির মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এখান থেকে বিকিরণের মাত্রাও নির্ণয় করা হবে।
অটোমেটেড ইমার্জেন্সি রেসপন্স মনিটরিং সিস্টেম বা এইআরএমএস মূলত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকার পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে প্ল্যান্টের সুরক্ষিত এলাকা গ্রিন সিটিতে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর-এর অনুরোধে নির্মাণ সহায়তাকারী দেশ রাশিয়া এই মনিটরিং ব্যবস্থা বিনামূল্যে তৈরি করে দেয়।
গত এক দশকে প্রকল্প এলাকার বাতাস, পানি, মাটি, দুধ, ঘাস ও সবজির বিভিন্ন পরিবেশগত উপাত্ত এই কেন্দ্রের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পর বিকিরণের মাত্রা কিংবা পরিবেশগত অন্য কোনো পরিবর্তন ঘটছে কি না, তা এই তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই পর্যবেক্ষণ করা হবে।
একজন বিশেষজ্ঞের ভাষ্য অনুযায়ী, রূপপুরে কোনো দুর্ঘটনা বা এক্সপোজারের কারণে রেডিয়েশন ছড়িয়ে পড়লে এই সিস্টেমের মাধ্যমে তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। অতিরিক্ত বিকিরণ ছড়াচ্ছে কি না, সেটিও এখান থেকে নির্ধারণ করা যাবে।
এছাড়া নির্দিষ্ট সময় পরপর সংগৃহীত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছেও প্রকাশ করা হবে। কেন্দ্রটিতে কর্মরত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য রেডিয়েশন বা বিকিরণ পরিমাপের যন্ত্রও স্থাপন করা হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট পরিচালনায় পরিবেশগত প্যারামিটারে পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তারপরও মানুষের আস্থা তৈরির জন্য আমরা ২৪টি এইআরএমএস স্টেশন স্থাপন করেছি।”
কেন্দ্রটির চারপাশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৪টি এইআরএমএস স্টেশন বসানো হয়েছে। এমনকি ঢাকা শহরেও একটি সুউচ্চ পরিমাপক টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে, যা পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।