মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সামনে ৩ পথ, উপদেষ্টারা দ্বিধাবিভক্ত

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

ইরান নিয়ে তিনটি আলাদা পথ ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপদেষ্টারা তাকে তিন দিকে টানছেন। পথগুলোর একটি আলোচনার, আরেকটি আবার যুদ্ধে ফেরার। মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম পথে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তারা চান আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করে যুদ্ধ শেষ করা হোক।

দ্বিতীয় পথে আছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তারা চান ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হোক।

তৃতীয় পথে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ। তারা ‘যুদ্ধও নয়, চুক্তিও নয়’ অবস্থা ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপ চালিয়ে যেতে বলেছেন, যাতে ইরান আমেরিকার শর্ত মানতে বাধ্য হয়।

র‍্যাটক্লিফ ট্রাম্পকে আরও বলেছেন, অর্থনৈতিক চাপ চলতে থাকলে ইরানে অস্থিরতা বাড়তে পারে। তাতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিদ্রোহও করতে পারে। পর্যবেক্ষকরা অনেক দিন ধরেই বলছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দেওয়াই ছিল ট্রাম্পের যুদ্ধের মূল হিসাব।

ট্রাম্প কোন দিকে ঝুঁকছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। গত কয়েক সপ্তাহে তিনি বারবার ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি সেনা ও যুদ্ধজাহাজও পাঠিয়েছেন। আবার একই সময়ে নতুন করে আলোচনার দায়িত্ব দিয়েছেন ভ্যান্সকে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরাও দুই পক্ষকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা বাড়িয়েছেন।

অ্যাক্সিওসের সূত্র বলছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা একটি খসড়া চুক্তি তৈরি করেছেন। এতে তিন দিনের মধ্যে কয়েকটি আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপের কথা আছে। লক্ষ্য হলো আমেরিকা ও ইরানের সরাসরি আলোচনা আবার শুরু করা। দুই দেশের জবাবের অপেক্ষায় আছেন মধ্যস্থতাকারীরা।

তবে এই ভাবনা চলাকালেই সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সীমিত হামলার সর্বশেষ ঘটনা এটি।

যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। ভোটাররা এর জন্য সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করছেন। এমনকি রিপাবলিকান প্রার্থী ও ভোটারদের কেউ কেউ তার থেকে দূরত্ব রাখছেন বলেও লেখা হয়েছে।

উপদেষ্টারা যখন তাকে টানছেন, তখন ট্রাম্প বলছেন, সিদ্ধান্ত নিতে ‘কোনো তাড়া নেই’। অ্যাক্সিওসকে তিনি বলেন, ‘এভাবে হোক বা ওভাবে, আমরা কিছু একটা করব। তবে কোনো তাড়া নেই। আমরা ওদের আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছি। ওদের টাকা নেই, গ্যাসোলিন নেই। ওদের মানুষ এসবে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।’

নির্বাচনের আগে তিনি আরও বলেন, ইরানের হাতে চুক্তি করার তাড়া এখন কিছুটা কম। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ওরা চুক্তি করার তাড়াটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।’

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD