ঈদ আসলেই যেন ব্যস্ততম সড়কে পরিণত হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়ক। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় দ্বিগুণ-তিনগুণ। এবার ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুতে ধারণ ক্ষমতার অধিক যানবাহন পারাপার হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহাসড়কের এলেঙ্গায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারসহ চারলেনের উন্নয়ন কাজ, বৃষ্টি, ফিটনেস বিহীন যানবাহনসহ নানা কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।
প্রতিবছর ঈদে এই মহাসড়ক দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪ জেলার লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করে। যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। কোরবানির পশু পরিবহন এবং ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতের যানবাহনের চাপে যানজট আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই মহাসড়কটি। এ কারণে প্রতিবছর ঈদে এই সড়কে যানবাহনের জটলা লাগে। শুধু ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশ ৬৫ কিলোমিটার।
এদিকে, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত চার লেনের কাজ কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ চলমান থাকায় স্বাভাবিক সময়েও যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বাস যাত্রী আলমগীর কবির বলেন, চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত গাড়ি স্বাভাবিক গতিতেই চলে। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত গাড়ির গতি কমে যায়। ঈদের সময় তো কথাই নেই। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়ে যায়। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত উন্নয়ন কাজ দ্রুতই করা উচিত। পরিবার আগেই গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি।
বাসচালক গফুর মিয়া বলেন, মহাসড়ক দিয়ে এখন স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করেছে। ঈদের ৪-৫দিন আগে যানবাহনে চাপ বেড়ে যায়। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। ফিটনেস বিহীন অনেক গাড়ি মহাসড়কে চলে আসে। যার ফলে এই গাড়ি নষ্ট হলে যানজটের সৃষ্টি হয়।
সাসেক ২ প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, মহাসড়কে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
এ বছর শেষের দিকে মহাসড়কের কাজ শেষ হবে। ঈদ উপলক্ষ্যে আগামীকাল থেকেই উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকবে। উন্নয়ন কাজের জন্য যতটুকু সড়ক দখল করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রস্থ বাড়ানো হয়েছে। এবারে উত্তরবঙ্গগামী মানুষ নিশ্চিন্তে ঈদে বাসায় যেতে পারবে। যানজট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদি কোনো দুর্ঘটনায় না হয়। যদি দুর্ঘটনা বা গাড়ি বিকল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে সাময়িক যানজট হতে পারে। বড় আকারের যানজট হবে না। মহাসড়কে রেকার রাখা হবে।
যমুনা সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, উভয় পাশে আলাদা মোটরসাইলেকের লেনসহ ১৮টি বুথে টোল আদায় করা হবে। গত ঈদে সেতুর উপর ৫০০ মিটার পর পর লোক রাখা ছিল। এবার ৩০০ মিটার পর পর লোক রাখার ব্যবস্থা রেখেছি। পশুবাহী গাড়ির জন্য আমাদের উদ্যোগ রয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে দুইটি রেকার থাকবে। গোল চত্বরে একটি রেকার থাকবে। মোট তিনটি রেকার থাকবে।
তিনি বলেন, ঈদযাত্রা গত ঈদের তুলনায় এবার ঈদে বেশি যানবাহন পারাপার হবে। ঈদুল ফিতরে তেলের সংকট থাকলেও প্রচুর যানবাহন পারাপার হয়েছে। এবার কোনো সংকট নেই। বৃষ্টি একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। আমাদের লোকজন ২৪ ঘণ্টা টোল প্লাজায় থাকবে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, যমুনা সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়কে আট শতাধিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ফিটনেসবিহীন যান চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।