শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন

জিমে না গিয়েও যেভাবে ফিট থাকবেন

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ফিট থাকতে হলে জিমে যাওয়া, দৌড়ানো বা বিভিন্ন কোর্সে অংশ নেওয়া দরকার— এমন ধারণার কথা আমাদের প্রায়ই শুনতে হয়। কিন্তু অনেকেরই ব্যস্ত জীবন, অফিসের কাজ কিংবা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত এসবের কোনটাই করা সম্ভব হয় না।

এমন অবস্থায় একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত উপায় হতে পারে ‘এক্সারসাইজ স্ন্যাকিং’ ছোট ছোট ব্যায়াম। অর্থাৎ দিনের ভেতর ছোট ছোট সময়ের জন্য একটু বেশি নড়াচড়া করা। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিতভাবে এমন ছোট পরিসরের শারীরিক পরিশ্রমও স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁপিয়ে ওঠা বা হৃদস্পন্দন কিছুটা বেড়ে যায় এমন উচ্চমাত্রার ব্যায়াম অবশ্যই ভালো। তবে সেটাই সব নয়। দৈনন্দিন জীবনের কাজের মধ্যেই যদি অল্প অল্প করে শরীরকে সক্রিয় রাখা যায়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

দিনে ছোট ছোট শারীরিক পরিশ্রম যোগ করুন

সকালের যে ৫ অভ্যাস বদলে দিতে পারে পুরো দিনের ছন্দ

এক্সারসাইজ স্ন্যাকিং বলতে বোঝায় দৈনন্দিন কাজের সময় সামান্য পরিশ্রম করা। অফিসে যাওয়া, বাসা থেকে বের হওয়া বা ঘরের কাজ, সবখানেই সুযোগ আছে।

যেমন

– সিঁড়ি ও লিফট একসঙ্গে ব্যবহার করা। লিফটে না উঠে সিঁড়ি দিয়ে উঠে পড়া

– বাস থেকে এক স্টপ আগে নেমে দ্রুত হাঁটা

– হাঁটার সময় গতি বাড়ানো। মাঝে মাঝে একটু দ্রুত হাঁটার চেষ্টা করা

যারা একদম কম নড়াচড়া করেন, তাদের জন্য দিনে তিন থেকে চারবার এক থেকে দুই মিনিটের এমন জোরাল নড়াচড়াও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং আয়ু বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

শুধু জিমের ওপর নির্ভর করবেন না

অনেকে সপ্তাহে এক বা দুই দিন জিমে যান বা খেলাধুলা করেন, কিন্তু বাকি সময়টা বসেই কাটান। বিশেষজ্ঞরা একে বলেন সক্রিয় অথচ বসে থাকা জীবনযাপন।

সপ্তাহে ত্রিশ মিনিট ব্যায়াম করলেই সারাদিন বসে থাকার ক্ষতি পুষিয়ে যায় না। অফিসে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা কিংবা বাসায় টিভির সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

এ ক্ষেত্রে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে

– কাজের ফাঁকে ফাঁকে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ানো

– দুপুরের খাবারের সময় অল্প হাঁটা

– ফোন মিটিং হলে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা

গবেষণা বলছে, টানা দীর্ঘ সময় বসে না থেকে প্রতি ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পরপর উঠে একটু নড়াচড়া করা সবচেয়ে ভালো।

বসে থাকার সময় কমানোর চেষ্টা করুন

স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনায় সাধারণত কতটা ব্যায়াম করতে হবে সেটাই বেশি বলা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, উল্টোভাবে ভাবাও জরুরি। অর্থাৎ কতটা সময় একেবারে নড়াচড়া ছাড়া কাটছে, সেটি কমানো।

যদি দিনে আট ঘণ্টা ধরা হয়, তাহলে বাকি সময়ের অন্তত অর্ধেক সময় নড়াচড়া থাকা উচিত।

এ ক্ষেত্রে করণীয়

– দিনে আট ঘণ্টার কম সময় বসে থাকা

– শিশুদের দীর্ঘ সময় এক জায়গায় আটকে না রাখা

– বাজারের ব্যাগ বহন করা, ঘরের কাজ করা, ঝাড়ু দেওয়া বা কাপড় গোছানোর মতো কাজগুলোকে ব্যায়ামের অংশ হিসেবে দেখা

এগুলো শরীরের শক্তি ও ভারসাম্য বাড়াতেও সাহায্য করে।

ফিট থাকার জন্য জিমে যাওয়াই একমাত্র পথ নয়। ব্যস্ত জীবনে ছোট ছোট সময়ের শারীরিক পরিশ্রম যোগ করাই হতে পারে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান। দিনে কয়েক মিনিট বেশি হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা বা কাজের ফাঁকে উঠে দাঁড়ানো— এই অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে বড় সুফল এনে দিতে পারে।

নিয়মিত নড়াচড়া শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য জরুরি। তাই আজ থেকেই দৈনন্দিন জীবনে এক্সারসাইজ স্ন্যাকিংয়ের অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে সুস্থ জীবনের সহজ প্রথম ধাপ।

সূত্র : বিবিসি

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD