মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘনীভূত হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে উদ্দেশ করে দেওয়া এক রহস্যময় বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘এটি ছিল ঝড়ের আগের শান্ত পরিবেশ।
ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি শেয়ার করেন। সেখানে তাকে ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ লেখা টুপি পরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পাশে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এক অ্যাডমিরাল।
উত্তাল সমুদ্র, আকাশজুড়ে বজ্রপাত আর দূরে ইরানি জাহাজ—সব মিলিয়ে ছবিটি ছিল যুদ্ধের পূর্বাভাসের মতো।
ছবির সঙ্গে ট্রাম্প লেখেন, ‘এটি ছিল ঝড়ের আগের শান্ত পরিবেশ।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বিমান হামলা শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙতে সামরিক পথ বেছে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ট্রাম্প।
যদিও গত ৮ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও পরিস্থিতি এখনো ঘোলাটে। বিশেষ করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমেনি। এই সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘শিগগিরই শান্তিচুক্তি না হলে ইরানের জন্য খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তাদের জন্য সমঝোতায় পৌঁছানোই ভালো।
’
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন আলোচনার বার্তা তারা পেয়েছেন। তবে ওয়াশিংটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো তেহরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। পারস্য উপসাগরে এখনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। যদিও দীর্ঘ ১১ মাসের অভিযানের পর বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড সম্প্রতি নিজ দেশে ফিরে গেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমাদের টানাপোড়েন এখন বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনা ভেস্তে যায়।
চীনও এই সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বেইজিং সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প দাবি করেন, ‘হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে গত আড়াই সপ্তাহে ইরানের প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ কার্যকর হবে না।
ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন ‘পেশাদার ব্যবস্থাপনা কাঠামো’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’–এর সঙ্গে যুক্ত অপারেটরদের জন্য এই রুট বন্ধই থাকবে। কেবল ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী দেশ ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বিশেষ সুবিধা পাবে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।