গাজীপুরের রুনু সুপার মার্কেটের অপ্পো শোরুমের বিক্রয়কর্মী মেহেদী হাসান তুহিনকে গত ১২ নভেম্বর রাতে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামি করে গাজীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সিআইডি তদন্ত শুরু করে এবং হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করে। পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. সুমন হোসেন (২৪), মো. হযরত (২২), মো. মাসুদ রানা (২২), আলিয়ার রহমান রাজু ও মো. ফখরুল ইসলাম (৩৮)।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার (২১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
তিনি বলেন, গাজীপুরের কোনাবাড়ির রুনু মার্কেটের লোটাস টেলিকম থেকে কাজ শেষে মজলিশপুর তার ভাড়া বাসায় যাচ্ছিলেন মেহেদি হাসান তুহিন। যাওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে ৫-৭ জন ছিনতাইকারী তার পথ আটকিয়ে তার কাছে থাকা নগদ টাকাসহ ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। পরে তুহিন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি তাদের দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে রড দিয়ে আঘাত করে এবং ছিনতাইকারীদের হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে তুহিনের গলাকেটে হত্যা করে তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে এই চক্রের মোট ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে। এরা সবাই দিনে বাসের হেলপারের কাজ করে, কেউবা অটোচালক। রাত হলেই তারা নেমে পড়ে ছিনতাই করতে বা মানুষ হত্যা করতে। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় কিছু আসামি এখনো পলাতক রয়েছে খুব শিগগিরই তাদেরও গ্রেফতার করা হবে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।