শহিদুল ইসলাম শাহিন সাদুল্লাপুর প্রতিনিধি : স্ত্রী সন্তানের ভবিষ্যত সুখের কথা ভেবে অর্থ বিত্তের স্বপ্নে বিভো র হয়ে ১৩ বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাঁড়ি জমান গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খামার দশলিয়া গ্রামের রাজা মিয়া। কিন্তু বিধি বাম। গত ২৩ ডিসেম্বর রাজা মিয়া কোম্পানীর কাজ করা কালীন সময় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেন।

এতে নিমিষেই তার ও পরিবারের সেই স্বপ্ন ধুলিস্যাত হয়ে যায়। মৃত্যুর দেড়মাস পর গত শুক্রবার মালয়েশিয়া থেকে এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এম এইচ ১৯৬ যোগে রাজার লাশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। আজ শনিবার সকাল ৭ টায় তার মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে। এ সময় এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়।
রাজা মিয়ার মরদেহ দেখে তার স্ত্রী, ২ কন্যা ও বাবা মায়ের গগনবিদারী আহাজারীতে আকাশ বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠে। মুহুর্তেই গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। এদিকে এ খবর জানাজানি হলে তাকে শেষবারের মত একনজর দেখার জন্য সকাল থেকে রাজার বাড়িতে শতশত নারী পুরুষ ভীড় জমাতে থাকে। রাজার স্বজনদের করুন আর্তনাদে উপস্থিত সকলের চোখে অশ্রু ঝরতে দেখা গেছে।

লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজা মিয়ার মামা ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, সাংসারিক আর্থিক সচ্ছলতা আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য প্রায় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের কাজ করছিলেন রাজা মিয়া। হঠাৎ মালয়েশিয়া থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মোবাইলে ফোনে তার পরিবার কে জানান, রাজা মিয়া মারা গেছেন। সেই থেকে রাজা মিয়ার লাশ দেশে আনার জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালানো হয়। পরে ওইদিন সকাল ১১ টায় নামাজে জানাজা শেষে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।