রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু মামলার প্রথম রায়ে ৩ এসআইয়ের যাবজ্জীবন

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রাজধানীর পল্লবী থানায় পুলিশ হেফাজতে জনি নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদসহ তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

এছাড়া এই তিন পুলিশ সদস্যের প্রত্যেককে বাদীপক্ষকে দুই লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বাকি দুই আসামি হলেন, এসআই রাশেদুল ইসলাম, এসআই কামরুজ্জামান মিন্টু।

মামলার অন্য দুই আসামি পুলিশের সোর্স রাসেল, সুমনকে সাত বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে কারাগারে থাকা এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ ও পুলিশের সোর্স সুমনকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা একই থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম উপস্থিত হন। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এছাড়া জামিনে গিয়ে পলাতক থাকায় এসআই কামরুজ্জামান মিন্টু ও পুলিশের সোর্স রাসেল আদালতে হাজির হয়নি। আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিকে, গত ২৪ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ তারিখ ঠিক করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে পুলিশ হেফাজতে মামলায় মৃত্যুর প্রথম রায়। এ মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ১১ নম্বর সেক্টরে স্থানীয় সাদেক নামের এক ব্যক্তির ছেলের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান চলাকালে পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় নিহত জনি ও তার ভাই মেয়েদের উত্তক্তকারী সুমনকে চলে যেতে বলেন। সুমন চলে গেলেও পরদিন এসে আবার আগের মতো আচরণ করতে থাকে। তখন জনি ও তার ভাই তাকে চলে যেতে বললে সুমন পুলিশকে ফোন করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের ধরে থানায় নিয়ে যান। তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে পুলিশ গুলি ছোড়ে।

পরে থানায় নিয়ে জনিকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে জনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জনিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত জনির ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি।

২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন পাঁচজনকে অভিযুক্ত এবং পাঁচজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তকালে পুলিশের এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামান মিন্টুকে নতুন করে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু, সোর্স সুমন ও রাশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

লাইটনিউজ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD