ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত ৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় প্রেমিক আশরাফুল (২২) ও মতিউর (২০) নামে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর পুরাতন ঠাকুরগাঁও বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে রুহিয়া থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া আশরাফুল পুরাতন ঠাকুরগাঁও এলাকার মোকলেসুরের ছেলে, অপর আসামি মতিউর চিলারং বাসগাড়া এলাকার আফাজ উদ্দিনের ছেলে।
এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি মধ্য রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়ে ৯ম শ্রেণির এই ছাত্রীগণধর্ষণের শিকার হয়। এই অভিযোগে পরদিন (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও রুহিয়া থানায় মেয়ের বাবা বাদি হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
পাশবিকতার শিকার স্কুলছাত্রীটির বাবা জানান, ঘটনার দিন রাত ১২ টার দিকে পরিবারের সকলে রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়ি। পরে রাত আনুমানিক তিনটার দিকে তিনি বাড়ির আঙিনায় কান্নার আওয়াজ পেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন, তার মেয়ের গাল বেয়ে রক্ত ঝরছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আচড়ের চিহ্ন। পরে রাতেই ঢোলারহাট বাজারের পল্লী চিকিৎসক লিজা বিশ্বাসের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে স্থানীয় মেম্বারকে বিষয়টি অবগত করেন। সকালে স্থানীয় মেম্বার ও মেয়েকে নিয়ে রুহিয়া থানায় অভিযোগ দিতে গেলে সেখানে মেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পুলিশের গাড়িতে করে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটি হাসপাতালের বেডে কান্নাজড়িত কন্ঠে বর্বরতার ঘটনা বর্ণনা করে জানান, ঘটনার দিন প্রেমিক সুজন এর ফোন পেয়ে বাড়ির সকলের অগোচরে ঘর থেকে বের হয় সে। পরে তাকে মোটরসাইকেলে একটি মুরগীর খামারের ভিতরে নিয়ে প্রেমিক সুজন ও সুজনের বন্ধু আশরাফুল, বিপ্লব, আরিফসহ চার-পাঁচজন মিলে পাশবিক নির্যাতন চালায়। এসময় সে জ্ঞান হারায়। জ্ঞান ফিরলে দেখে সে তার বাড়ির পাশের রাস্তায় পড়ে রয়েছে। পরে সেখান থেকে কোনরকমে সে ঘরে পৌঁছায়।
রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চিত্তরঞ্জন রায় বলেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আসামিদের ধরতে তৎপর হয় পুলিশ।