এবারের বিপিএলের আগে থেকেই চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন সাকিব আল হাসান। বিপিএল খেলার সময় আরও ভালোভাবে টের পান সমস্যা। তাইতো শুরুর এক ম্যাচ খেলেই উড়াল দিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে। সেখানে চিকিৎসা শেষে বিপিএলে ফিরেও ব্যাটে রান পাচ্ছিলেন না তিনি। যেন
ব্যাটিংটাই ভুলে গিয়েছিলেন। প্রথম ৫ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৪ রান। অথচ পরের ৪ ম্যাচেই সেই রান ১৯২! বল হাতেও ১৩ উইকেট নিয়ে তিনি আছেন এখল টুর্নামেন্টসেরার আলোচনায়।
গতকাল শুক্রবারও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৩৯ বলে ৬২ রানের ঝোড়ো এক ইনিংস খেলেছেন সাকিব। তাতে প্রথমে ব্যাট করে তার দল পায় ১৮৭ রানের বিশাল সংগ্রহ। জবাব দিতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানের বেশি করতে পারেনি চট্টগ্রাম। ১৮ রানের জয়ে প্লে অফ খেলাও তাতে নিশ্চিত হয়ে গেল রংপুরের।
কালকে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ম্যাচসহ টানা দুই ম্যাচে ফিফটি পেলেন সাকিব। আজকে ৬২ রানের আগের ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে করেছিলেন ৩১ বলে ৬৯। সাকিব শুধু রানেই ফেরেননি। দুর্দান্ত স্ট্রাইকরেটেও ব্যাট করেছেন। ১৭১.৯২ হারে রান করেছেন এই অলরাউন্ডার। সাকিব ব্যাট হাতে
কেমন ফর্মে আছে সেটি বোঝা যায় তার বাউন্ডারির সংখ্যাতেই। এখনো পর্যন্ত ১৫টি চারের বিপরীতে ১৩টি ছক্কা মেরেছেন তিনি।
টুর্নামেন্টসেরার দৌড়ে সাকিবকে লড়াই করতে হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের তাওহীদ হৃদয় ও দুর্দান্ত ঢাকার শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। এখনো পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ব্যাটে-বলে শীর্ষে তারাই। ৯ ম্যাচে ৩৪১ রান করে সবার ওপরে হৃদয়। টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া এই ব্যাটার রানও তুলেছেন
১৬০ স্ট্রাইকরেটে। আরও কিছু ম্যাচ পাবেন তিনি। কারণ তার দল কুমিল্লার প্লে অফ খেলা প্রায় নিশ্চিত।
তবে শরিফুলের টুর্নামেন্টসেরার দৌড়ে টিকে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসবে। কারণ ১১টি ম্যাচ খেলে ফেলা শরিফুল আর ম্যাচ পাবেন মাত্র ১টি। ২০ উইকেট নিয়ে এখনো সবার শীর্ষে আছেন। তবে সেই সিংহাসন ধরে রাখতে পারবেন কি না সেটিই এখন দেখার বিষয়। ১৫ উইকেট নিয়ে শেখ
মেহেদী বেশ পিছিয়ে থাকলেও বেশ কিছু ম্যাচ সামনে পাবেন তিনি। আবার ব্যাট হাতেও মন্দ করছেন না তিনি। সম্ভাবনা আছে তারও।