যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, আগামী নভেম্বরে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং এর পরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় ইরানের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে, কারণ ইরান আর বেশি সময় টিকে থাকতে পারবে না।
টেক্সাসে পৌঁছেও একই বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হলেও তা মেনে নেওয়া মূল্যবান।
নির্বাচনের পর কমবে তেলের দাম
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। তবে দাম কমতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ‘জয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই’ তেলের দাম কমতে শুরু করবে।
চলমান সংঘাতের কারণে গত ছয় মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম তিনবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ইরানের হামলার পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বাধা তৈরি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বুধবারও অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে উঠে যায়, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
যুদ্ধ নিয়ে চাপে ট্রাম্প
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর সংঘাত শুরু হয়। পরে তা দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের নিজ দলের কট্টরপন্থী সমর্থকদের একটি অংশ যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডিজেলের দামও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি সুদের হারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ইরানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে মরিয়া ইরান। তার দাবি, ইরান এমন একটি রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় আনতে চায়, যারা দুর্বল অবস্থান নেবে এবং তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে।
তবে নির্বাচনে ইরানের প্রভাব বিস্তারের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি ট্রাম্প। তার বক্তব্য মূলত ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন দেশের তেল স্থাপনায় হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সমুদ্রপথে পরিবহন করা বিভিন্ন পণ্যের খরচেও।
ফলে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পণ্যের দামের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: বিবিসি।