সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের বানভাসী মানুষগুলো রয়েছেন চরম দুর্ভোগে।
আজ রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম জানান, রবিবার বিকেল ৩টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার এবং কাজিপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে শনিবার সকাল থেকে যমুনার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন পানিবন্দি লাখো মানুষ। এসব অঞ্চলে দেখা দিচ্ছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকট।
অপরদিকে পানিবৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ৩ দিনে সিরাজগঞ্জের শিমলা এলাকায় যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার। বর্তমানে তারা স্থানীয় উঁচু বাঁধসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই আবারও ভাঙনের আশঙ্কায় তাদের বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম বলেন, যমুনায় পানি ধীরগতিতে বাড়ছে। চলতি বন্যায় জেলার ৬ উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় আড়াই শ গ্রামের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বন্যার্তদের জন্য ২৬৭ মেট্টিক টন চাল, ৩৯৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ছাড়াও শিশু খাদ্য ও গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।