গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নামে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, কর্মকর্তাদের অগোচরে লাখ লাখ টাকার চেক ইস্যুসহ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ও করোনা মোকাবিলা তহবিল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সদ্য বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, প্রিমিয়ার ব্যাংকের গাজীপুর কোনাবাড়ি শাখায় খোলা ‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ নামে অ্যাকাউন্টে জাহাঙ্গীর আলমের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নামে এমন ব্যাংক হিসাব নেই।
ভুয়া এ অ্যাকাউন্টে ‘ফিন-বাংলা এ্যাপারেলস’ এবং ‘জিএসএম কম্পোজিট লিমিটেড’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অগ্রিম হোল্ডি ট্যাক্স বাবদ দুই কোটি ২০ লাখ টাকা নিয়ে জমা দিয়ে তুলে নিয়েছেন জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া করপোরেশনের দুজন কর্মকর্তার অগোচরে তাদের নামে ৯১ লাখ টাকার পৃথক দুটি চেক ইস্যু করে সেগুলোও নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন জাহাঙ্গীর।
২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ অ্যাকাউন্টের বিবরণী পাওয়া গেছে। অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে বন্ধ।
সূত্র জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক ‘প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা’ মো. রেজাউল বারীর নামে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করতে অগ্রিম ৪৫ লাখ টাকার চেক ইস্যু করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানের জন্য সিটি করপোরেশনের সাবেক সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নামেও ৪৬ লাখ টাকার চেক ইস্যু করা হয়েছে। যা তারা কেউই জানেন না।
এ বিষয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। যারা আমাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র করেছেন, তারাই এখন নতুন নতুন অভিযোগ তুলছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকে আমার নামে কে বা কারা অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন করেছেন তা আমার জানা নেই।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়ার আসাদুর রহমান কিরণ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রিমিয়ার ব্যাংকে ‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ নামে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। অথচ সেই অ্যাকাউন্টে সাবেক মেয়র লেনদেন করেছেন বলে আমরা জেনেছি। ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা গেছে উনি নিজে (জাহাঙ্গীর) এবং তার লোক শহিদুল, প্লোটো চাকমা ও শামীম হোসাইন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলেছেন।
ভারপ্রাপ্ত মেয়র আরও বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি বিষয়গুলো তদন্ত করছে। নিশ্চয়ই তদন্তে অনিয়মগুলো বের হয়ে আসবে।
গত নভেম্বরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে। পরে তাকে জমি দখল, জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মতো অভিযোগে মেয়রের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তার অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়। জাহাঙ্গীরের অনিয়ম-দুর্নীতির খতিয়ান অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কমিটির আহ্বায়ক।