মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বন্ধ থাকবে ব্যাংক বাজার থেকে ‘ড্যানজিন ১০জি’ বালাইনাশক প্রত্যাহারের নির্দেশ শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পাড়া-মহল্লায় মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে: আইজিপি এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের ইতিহাস গড়ে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচন আজ, নেতানিয়াহুর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ এসেছে: প্রধানমন্ত্রী অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রী

ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধসেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ প্রাণহানির কারণ হিসেবে প্রথমে যে ভূমিকম্পকে দায়ী করা হয়েছিল, সেটি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের পরবর্তী ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ঘটনাটি ভূমিকম্প নয়; বরং হিমবাহের একটি অংশ ধসে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত তৈরি করেছিল। সেই স্রোত নদীপথে নেমে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদামাটির প্রবাহে পরিণত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ করে দেয়।

নেপালের রাসুয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসের পর লেন্ডে নদীপথে বরফ, পাথর ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। এরপর সেই স্রোত ভোতে কোশী নদীর দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে।

স্যাটেলাইট চিত্রের প্রাথমিক বিশ্লেষণেও নদীর আশপাশে বড় ধরনের বরফ-পাথরের ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ইউএসজিএসের মতে, এ ধরনের debris flow অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নেমে এসে পথের বাড়িঘর, যানবাহন, গাছপালা ও অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৬২-তে পৌঁছেছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং ব্যাপক কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে।

নেপালের পাশাপাশি তিব্বতের জিরং এলাকাতেও এই দুর্যোগের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সেখানে হতাহত ও নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় পাথর, কাদা ও পানির প্রবল স্রোত ভবন, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

রাসুয়া, ধাদিং ও আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নেপালি সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকা থেকে জীবিতদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে কাদা, ধ্বংসস্তূপ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় উদ্ধারকাজে নানা বাধা তৈরি হয়েছে।

হিমবাহ বা বরফের বাঁধ ধসে আকস্মিক পানির স্রোত তৈরি হলে তা বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সঙ্গে নিয়ে নিচের দিকে ছুটে যেতে পারে। ইউএসজিএস বলছে, এ ধরনের debris flow অত্যন্ত দ্রুতগতির এবং এর পথে থাকা স্থাপনা ও যানবাহন পর্যন্ত ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

নেপালের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগ আবারও দেখিয়ে দিল, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। আর সেই বিপদের সামনে কয়েক মিনিটের ব্যবধানই কখনো কখনো জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য হয়ে দাঁড়ায়। এনডিটিভি

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD