বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

মার্কিন অবরোধে অচল ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গত ২২ দিন ধরে দ্বীপটির তিনটি বড় টার্মিনালের কোনোটিতেই নতুন করে তেল বা গ্যাসের চালান পৌঁছায়নি। বুধবার (১২ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপটি দেশটির জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রায় ৫ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপের টার্মিনালগুলো দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত গ্যাস বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ফলে দ্বীপটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে ইরানের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রমাণিত তেলের মজুত প্রায় ২০৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের মোট মজুদের প্রায় ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। তেল মজুদের দিক থেকে ভেনেজুয়েলা ও সৌদি আরবের পর ইরানের অবস্থান তৃতীয়। দেশটির অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে তেল রপ্তানিনির্ভর। রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে যায়।

খার্গ দ্বীপ মূলত ইরানের তেল ও তরল জ্বালানি গ্যাস রপ্তানির প্রধান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন তেলক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাসক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত গ্যাস প্রক্রিয়াজাত ও তরলীকরণের পর তা ট্যাংকারে করে খার্গ দ্বীপের টার্মিনালগুলোতে আনা হয়। পরে সেখান থেকে ইরানি ট্যাংকারে করে এসব জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।

আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে দেশটির তেল ও গ্যাস উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে খার্গ দ্বীপের টার্মিনালগুলোতে নতুন কোনো চালান পৌঁছাচ্ছে না।

উইন্ডওয়ার্ডের কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানিয়েছেন, গত ২২ দিন ধরে খার্গ দ্বীপের তিনটি বড় টার্মিনালের কোনোটি থেকেই নতুন চালান পাঠানো বা সেখানে নতুন চালান পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ৩১ জুলাইয়ের পর দ্বীপটি থেকে নতুন কোনো তেল রপ্তানি চালানও বের হয়নি। বর্তমানে খার্গ দ্বীপের বন্দরে ১৭টি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার নোঙর করে আছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অভিযান শুরু করার পর তেহরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে। এর জবাবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতি হয়। চুক্তির পর ইরান হরমুজ প্রণালির অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রহরাও শিথিল হয়।

তবে গত ১৩ জুলাই ইরান ওই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে হরমুজ প্রণালিতে ফের অবরোধ আরোপ করে। একই সময়ে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে অবরোধ জোরদার করে।

সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর প্রথম দিকে মার্কিন অবরোধ তুলনামূলকভাবে শিথিল থাকায় ইরান নৌপ্রহরা এড়িয়ে সীমিত পরিসরে তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তখন এটিকে সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে।

তবে সময়ের সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ আরও কঠোর হয়েছে। ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ১৪ দিনে একটি জাহাজও ইরানের কোনো বন্দর থেকে খার্গ দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হতে পারেনি। ফলে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্রটিতে নতুন করে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং রপ্তানি কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD