মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বন্দর দেশি-বিদেশি যার হাতেই যাক জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত হবে: অর্থমন্ত্রী সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান সামরিক চুক্তি ভারতের জন্য কতটা চিন্তার কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু ২৭ আগস্ট রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার আলোচনায় ব্যর্থ হলেই যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার আশ্রয় নেয়: ইরান ‘ভালোবাসি গাইবান্ধা’ সংগঠনের ২০২৬-২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছোট করার চেষ্টা করছে স্বাধীনতাবিরোধীরা: রিজভী বাংলাদেশে ভিসার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৮৪, মামলা ৫৮

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান সামরিক চুক্তি ভারতের জন্য কতটা চিন্তার কারণ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্ক তো আগে থেকেই ছিল, এবার তাদের সঙ্গে যুক্ত হলো সৌদি আরবও। এই তিন দেশ মিলে সম্প্রতি একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি করায় ভারতের জন্য কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

গত বছরের জুলাইয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ের পর ভারতীয় সেনাপ্রধানের এক উপপ্রধান জানিয়েছিলেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় ভারতকে মূলত একসঙ্গে তিন শত্রুর মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যেখানে পাকিস্তান সরাসরি লড়াই করেছে, চীন রিয়েল-টাইম স্যাটেলাইট দিয়ে তথ্য সাহায্য দিয়েছে এবং তুরস্ক পাকিস্তানকে কামিকাযে ড্রোন দিয়ে সহায়তা করেছে।

এরপর চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরব মিলে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল কথা হলো—এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর যদি কেউ আক্রমণ করে, তবে তা তিন দেশের সবার ওপরই আক্রমণ বলে গণ্য হবে। এর অর্থ দাঁড়ায়, ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো সামরিক সংঘাত বাঁধলে চতুর্থ দেশ হিসেবে সৌদি আরবও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যেতে পারে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চুক্তিটিকে শুধুই আত্মরক্ষামূলক বললেও, ভারতের দিক থেকে এটি চিন্তার বিষয়। কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো ও গভীর। দুই দেশের মধ্যে কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা রয়েছে এবং ভারত তার মোট তেলের একটি বড় অংশ সৌদি আরব থেকেই আমদানি করে থাকে।

দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটে বড় ধরনের সাহায্য দিয়ে আসছে সৌদি আরব। তেল কেনার জন্য টাকা বাকি রাখা কিংবা ব্যাংকে কোটি কোটি ডলার জমা রেখে দেশটিকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে রিয়াদ। শুধু অর্থনীতি নয়, সামরিক দিক থেকেও দুই দেশের সম্পর্ক বহু পুরনো। অতীতে পাকিস্তানের সেনারা সৌদি আরবের সুরক্ষায় কাজ করেছে এবং দুই দেশ নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়াও করে থাকে।

পাকিস্তান অস্ত্র আমদানির জন্য তুরস্কের ওপর অনেকখানি নির্ভর করে। তুরস্কের তৈরি বিখ্যাত ড্রোন বায়্রাকতার এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বা কর্ভেট পাকিস্তান তাদের বহরে যুক্ত করেছে। গত বছর ভারতের সঙ্গে সংঘাতের সময় পাকিস্তান তুর্কি ড্রোন ব্যবহার করায় ভারতও এর কড়া কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জবাব দিয়েছিল; যেমন—তুর্কি কোম্পানির নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করা এবং ভারতীয়দের তুরস্ক ভ্রমণ বর্জন করা।

পাকিস্তান যদি তাদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের পথ থেকে সরে না আসে, তবে এই নতুন তিন দেশের মৈত্রী ভারতের জন্য বড় এক মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। যদিও এই চুক্তিটি ঠিক পুরোপুরি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মতো শক্তিশালী নয় এবং এর নিজস্ব কোনো যৌথ কমান্ড বা কঠোর যুদ্ধ করার নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, তবুও দীর্ঘ মেয়াদে ভারত নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। দিল্লি সতর্ক রয়েছে যেন ভবিষ্যতে এই চুক্তির সুযোগ নিয়ে কেউ ভারতের বিরুদ্ধে সম্মিলিত কোনো চাপ তৈরি করতে না পারে।

সূত্র: এনডিটিভি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD