অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক সচিব ড. আনোয়ারুল হক প্রামাণিকসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদকের রাজশাহী জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।
তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন স্থাপনা মেরামত, সংস্কার ও নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন না করেই এসব অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- শিক্ষাবোর্ডের উপসচিব (ভান্ডার) সেলিনা পারভীন (৫৩), নেসার উদ্দিন আহম্মেদ (৫২), উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক মানিক চন্দ্র সেন (৪৮), সহকারী প্রোগ্রামার ফরমান আলী (৪৬), নিরাপত্তা কর্মকর্তা গোলাম ছরওয়ার (৫১), সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জহিরুল হক (৫১), ঈমাম আবুল হাশেম মো. রহমতুল্লাহ (৪৫), ডাটা এন্ট্রি-কন্ট্রোল অপারেটর আজহার আলী (৩৬), বোর্ডের ঠিকাদার শওকত আলী (৫৪), ইসরাফিল হোসেন (৩৩), রওশন রেজভী আলম (৪৩) ও রিপন রায় কুশ (৩৫)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে একে অপরের সহায়তায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ২০১৫-২০১৬ থেকে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে অবৈধভাবে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
কাজগুলোর মধ্যে ছিল রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের অফিস কাম বাসভবনের সংস্কার, মোটরসাইকেল এবং জিপ গাড়ি রাখার গ্যারেজ নির্মাণ, পুরাতন ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার রং করা, পুরাতন ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার রং করা, পুরাতন ভবনের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে ড্রেন নির্মাণ, উপকরণ শাখা ও কর্মচারী ইউনিয়ন কক্ষের মূল রাস্তা নির্মাণ, গ্যারেজের সামনে রাস্তা উঁচুকরণ, প্রশাসনিক ভবনের সামনের রাস্তা পাথর সিমেন্ট দ্বারা উঁচু করা, পুরাতন ভবনের স্কুল কলেজ নিবন্ধন শাখার পূর্ব প্রাচীর সংলগ্ন পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্ত এবং ভবন সংলগ্ন পূর্ব-দক্ষিণ পাশ ভরাটসহ সাপোর্ট ওয়াল দ্বারা সোলিং রাস্তাকরণ।
মামলার বিষয়ে কথা বলতে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক সচিব আনারুল হক প্রামানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে মামলা তিনটির আসামি বোর্ডের বর্তমান উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসাব রক্ষণ অফিসার মানিক চন্দ্র সেন বলেন, আমার এখন মাথা ঠিক নেই। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।
লাইটনিউজ