নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার জালকুড়ি এলাকায় দুই সন্তানসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার ঘোষণা দেন এক ব্যক্তি। তার এই পোস্টের পর পরই তারই ফেসবুকের এক বন্ধু দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশের তৎপরতায় বেঁচে গেল তিনটি প্রাণ।
গতকাল শুক্রবার (১৮ মার্চ) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক কারণে পুলিশ ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানান।
জানা যায়, দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় উক্ত ব্যক্তির। স্বামীকে তালাক দিয়ে দুই সন্তানকে বাবার কাছে পাঠিয়ে দেন স্ত্রী। ১০ বছরের সংসারে আছে ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ৪ বছর বয়সী এক ছেলেসন্তান। স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে শ্বশুরবাড়ি থেকে লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে আসেন স্বামী। হতাশা থেকেই দুই সন্তানকে নিয়ে লাইভে এসে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নেন তিনি। দোকান থেকে তিনজনের জন্য কাফনের কাপড়ও সংগ্রহ করেন।
পুলিশ জানায়, ফেসবুক থেকে ওই যুবকের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করে তাকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফেরায়। পরে থানায় ডেকে এনে কাউন্সেলিং ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে আত্মহত্যার পথ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) নাজমুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিচ্ছেদের পর প্রচণ্ড হতাশা থেকে দুই সন্তান নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল লাইভে থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকার ভাড়া বাসায় গিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে গলায় ফাঁস দেবেন। ফেসবুক লাইভে থেকে তিনি বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। ওই ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন। থানায় ডেকে এনে তাদের সঙ্গে কথা বলে আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।