নিজেদের যমজ সন্তানের একজনকে হারিয়েছেন মাসখানেক আগে। অন্য সন্তান সাত মাস বয়সী খাদিজাও হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় লড়ছে জীবনের সঙ্গে।
সন্তানকে বাঁচাতে হন্যে হয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন মা-বাবা। গণমাধ্যমে এমন খবর দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাঠিয়েছেন আর্থিক সহায়তা, নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার।
রবিবার (১৭ মে) গণমাধ্যমে ‘এবার খাদিজাকে নিয়ে মা-বাবার ছোটাছুটি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।
এর পরই তিনি শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে যান ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন শিশু খাদিজার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খাদিজার পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা ও ফলমূল তুলে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ ও সহমর্মিতার কথা জানতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন খাদিজার মা সায়মা বেগম। সন্তানের শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি ছোট্ট খাদিজার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে শিশু খাদিজা। কয়েক দিন ধরেই তাকে বাঁচাতে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন তার মা-বাবা। এর আগে মাত্র এক মাস আগেই এই দম্পতি তাদের যমজ দুই সন্তানের একজন—ফাতেমাকে হারিয়েছেন।
এখন অপর সন্তান খাদিজাও হাসপাতালের বিছানায় লড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরিবারটি যমজ শিশুর একজনকে ইতোমধ্যে হারিয়েছে এবং অন্য শিশু খাদিজাও সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন—এই বিষয়টি তাকে ব্যথিত করেছে। তিনি শিশুটির চিকিৎসা ও পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
খাদিজার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি আরো বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, খাদিজার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতির দিকে। তার সুচিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
এ সময় হাসপাতালে আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমান, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল হক, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. মজিবুর রহমান ও ডা. মো. মেহরাব হোসেনসহ অন্য চিকিৎসকরা।