কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দাম্পত্য কলহের জেরে শ্বশুর বাড়িতে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক পাষন্ড স্বামীর বিরুদ্ধে। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের মাওলানা পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ঘাতক স্বামী আবু বকর সিদ্দিককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাস উপজেলার পাইকের ছড়া ইউনিয়নের মাওলানা পাড়া গ্রামের শাহজাহান আলীর কন্যা শাহিদা এবং তার স্বামী একই গ্রামের মৃত আব্বাছ আলীর পুত্র আবু বকর সিদ্দিকের মধ্যে কলহ চলে আসছিলো। দাম্পত্য কলহের জেরে কিছু দিন আগে শাহিদা বেগম ছোট সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সোমবার (০৩ জানুয়ারী) রাতে শাহিদার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক শ্বশুর বাড়িতে আসেন। ওই দিন দিবাগত রাত তিনটার দিকে শাহিদাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় আবু বকর।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু সায়াদাত বজলুর রহমান বলেন, শাহিদা বেগমের (৪০) সাথে প্রায় ২৪ বছর আগে একই গ্রামের মৃত আব্বাছ আলীর পুত্র আবুবকর সিদ্দিক (৪৪) এর সাথে বিয়ে হয়। সে পেশায় একজন কাঠ ব্যবসায়ী। দাম্পত্য জীবনে তাদের ৩টি কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহতের চাচা মহির উদ্দিন বলেন,তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় নিহত শাহিদা কিছু দিন থেকে তার বাবার বাড়িতে ছিলেন। ঘাতক সিদ্দিক আলী মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো। সোমবার রাতেও সিদ্দিক আলী তার শ্বশুর বাড়িতে যান। রাত ৩টার দিকে চিৎকার শুনে আমরা এসে দেখি শাহিদার রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে বিছানায়। এ সময় তার ছোট মেয়েও আহত হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাতক আবু বকর সিদ্দিককে পাশের গ্রাম থেকে আজ (৪ জানুয়ারি) সকালে আটক করা হয়েছে এবং আটক সিদ্দিক স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। আটক সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।