দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
চিঠিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনকে বলেছেন এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও অঙ্গীকার করেছেন কিম। উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতার ক্ষেত্রে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক চিঠি খুবই বিরল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
দক্ষিণের জাতীয় উপদেষ্টা সু হুনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইয়নহাপ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেছেন, এই ঘটনাটি অনাকাক্সিক্ষত। এমনটি আর ঘটতে দেয়া হবে না। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়নহাপ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কিম চিঠিতে লিখেছেন, মুনকে এই হতাশাজনক একটি ঘটনার মুখোমুখি করার জন্য তিনি ‘খুবই দুঃখিত’।
উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে ওই ঘটনার আরও বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তাকে ১০টি গুলি করা হয়েছিল বলে তারা স্বীকার করেছে। তবে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের এক কর্মকর্তাকে (৪৭) গুলি করে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছে উত্তর কোরীয় সৈন্যরা। এ ঘটনাকে ‘পাশবিক কাজ’ বলে অভিহিত করে কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ।
সিউল জানায়, মৎস্য বিভাগে কাজ করা তাদের ওই কর্মকর্তা সীমান্তের নিকটবর্তী জায়গায় বোট থেকে নিখোঁজ হন এবং পরে উত্তর কোরিয়ার জলসীমায় তাকে পাওয়া যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, উত্তর কোরীয় সৈন্যরা প্রথমে তাকে গুলি করে, এরপর তার শরীরে তেল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
ধারণা করা হয়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটা করে থাকতে পারে উত্তর কোরিয়া। সচরাচর দুই কোরিয়ার সীমান্তে কড়া পাহারা থাকে এবং ধারণা করা হয়, দেশে করোনাভাইরাসের প্রবেশ রুখতে সীমাস্তে ‘গুলি করে হত্যা’র নীতি গ্রহণ করেছে উত্তর কোরিয়া।
লাইটনিউজ