ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্যে প্ররোচিত হয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী এলাকার শ্রী শ্রী রাধামাধব জিউর মন্দিরে হামলা ও লুটপাত চালায় স্বার্থান্বেষী মহল। হামলার পর মন্দিরের বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ দেখে চারজনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রোববার (৭ নভেম্বর) থেকে সোমবার (৮ নভেম্বর) পর্যন্ত রাজধানীর ডেমরা, নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. মনির হোসেন ওরফে রুবেল (২৮), জাকের হোসেন ওরফে রাব্বি (২০), মো. রিপন (২১) ও মো. নজরুল ইসলাম ওরফে সোহাগ (৩৬)।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে মন্দির থেকে লুট হওয়া সাতটি পিতলের প্রতিমা, তিনটি সিদুঁরে কৌটা, ২০টি বাতির কৌটা, দুটি দ্রুপতি, পাঁচটি পঞ্চ বাতির দানি, দুটি হাত ঘণ্টাসহ পূজার বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত রুবেল, রাব্বী এবং রিপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে প্ররোচিত হয়েই প্রত্যক্ষভাবে হামলায় অংশ নেয়। হামলার পরে তারা দুটি বস্তায় করে মন্দিরের বিভিন্ন পিতলের পূজার সামগ্রীসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। পরে তারা সোহাগের সহযোগিতায় ধাতব আইটেমসমূহ রুপান্তর করে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল।
তিনি আরও বলেন, মন্দিরের মালামাল লুট করার সময় রুবেলের ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়াতে ভাইরাল হয়। রুবেল, রাকিব, রিপন এবং সোহাগ বিভিন্ন পেশায় জড়িত। রুবেলের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের একটি মামলা রয়েছে।
খন্দকার আল মঈন বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ও অপশক্তিকে রোধ করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে র্যাবের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে গ্রেফতারে র্যাবের এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।