শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অতীতের ফ্যাসিবাদ থেকে আগামীর ফ্যাসিবাদ হবে আরও ভয়াবহ : ডা. শফিকুর রহমান রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে বিক্ষোভ, পিএস জনি নন্দী পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ কমালেন প্রেসিডেন্ট হ্লেইং নিজ ক্যাম্পাস জাবিতে মরণোত্তর সম্মাননায় সিক্ত হুমায়ূন ফরীদি পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কিরগিজস্তান রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ পাম্পে তেল নিতে গিয়ে আগুনে পুড়ল মাইক্রোবাস রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিলো যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চলতি সপ্তাহে আসবে আরও ১ লাখ ৬৪ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি
মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত

হুমায়রার কফিনে বাবার শেষ চুমু

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫

উঠানে রাখা কফিনে শিশু মেহেনাজ আক্তার হুমায়রার নিথর দেহ। চলছে জানাজার প্রস্তুতি। একপাশে গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। কারও চোখে জল, কারও মুখে হাহাকার। পাশে বসে বারবার কফিনে চুমু খাচ্ছিলেন বাবা। উপস্থিত সবাই সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে কান্না ধরে রাখতে পারেননি। মাত্র তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এই শিশুটির এমন বিদায় কেউ যেন মেনে নিতে পারছিলেন না।

হুমায়রার পরিবারের ভাষ্যমতে, সোমবার বিকেলেই মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনার খবর গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুরে হতেয়া কেরানী পাড়া গ্রামে পৌঁছায়। সন্ধ্যার পর থেকেই লোকজন বাড়িতে ভিড় করতে থাকে। রাত আড়াইটার দিকে হুমায়রার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। তখন থেকেই বাড়ির চারপাশে কান্না-আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

শোকে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বিলাপ করতে করতে হুমায়রার বয়স্ক দাদি বলছিলেন, ‘আমার বোইন (নাতনি হুমায়রা) কোরবানির ঈদে বাড়িতে আইছিল। বাড়ি জুইড়া কী হাসিখুশি! কত দৌড়াদৌড়ি, কত খেলা! ওইটাই ছিল শেষ দেহা। গত সপ্তাহে একবার কথা হইছিল, সোমবার (গতকাল) সকালে আবার কবার কথা ছিল। কিন্তু, আর কওয়া হইল না। না কইয়াই বোইনে চইল্যা গেল!’

হুমায়রার বাবা দেলোয়ার হোসেন- উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক। কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘হুমায়রার স্কুল ছুটি হয়েছিল। বলেছিলাম, অপেক্ষা করো, মা আসবে নিতে। ও অপেক্ষা করছিল।’

তিনি বলেন, সবচে কষ্টের ব্যাপার হলো—‘আমার স্ত্রী সুমি শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার আগেই তার চোখের সামনে বিমানটি হুমায়রার ক্লাসে আছড়ে পড়ে। সবকিছু ওর চোখের সামনেই ঘটেছে। আমি তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব?’

সকাল ৯টার দিকে বাবার চোখের জল আর অশ্রুসিক্ত চুমুতে বিদায় নেয় হুমায়রা। কফিনের পাশে বসে বারবার কফিনে চুমু খাচ্ছিলেন বাবা।

হুমায়রার দাদা আবদুল বাছেদ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘এবার ঈদে দাদু বাড়িতে এসেছিল। সারাক্ষণ আমার সঙ্গেই ছিল। দাদু আর কোনোদিন আসবে না, আর কখনও “দাদু” বলে ডাকবে না।’

ঘরের মেঝেতে নিথর পড়ে আছেন হুমায়রার মা সুমি আক্তার। মাঝে মাঝে চোখ খুলে চারপাশে তাকান, আবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

জানাজার সময় উঠানে জড়ো হয় শত শত মানুষ। চারদিকে শুধু কান্না আর আহাজারি। এক অসহ্য নীরবতা ছড়িয়ে পড়ে। ছোট্ট হুমায়রার প্রতি ভালোবাসা জানাতে গোটা এলাকা শোকাহত হয়ে পড়ে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় হুমায়রাকে।

গত সোমবার দুপুরে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বলেছে, রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৩২ জন নিহত ও ১৬৫ জন আহত হয়েছেন।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD