হবিগঞ্জে ১৯৯৯ সালে আর্থিক লেনদেনের জের ধরে খুন হন নুরচান বেগম (৪০) নামক এক বিধবা। ঘটনার ২২ বছর পর প্রধান আসামি আদম খান ওরফে রফিককে (৪৫) মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) র্যাবের অভিযানে সাভারের আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ৩১ মে ১৯৯৯ সালে আর্থিক লেনদেন এর জের ধরে আদম খান ভিকটিম নুরচান বেগমকে তার তিন বছরের শিশু সন্তান তাজউদ্দিন এর সামনে পার্শ্ববর্তী জনৈক আছমত আলীর ঘরে অমানবিকভাবে ছুরি দিয়ে রক্তাক্ত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানায় নুরচান বেগম এর ছেলে শফিক বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা রুজু করে।
তিনি জানান, এ ঘটনার ৭/৮ মাস পূর্বে ভিকটিমের স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। বিধবার মৃত্যুতে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে পিতামাতা হারা হয়ে গেলে ভিকটিমের নিকটাত্মীয় (ফুপা) এবং এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় মামলাটি পরিচালনা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৭ জুলাই ২০০২ সালে আদালত আসামি আদম খান’কে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন।
এ ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর যাবত পলাতক ছিলো। গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৯ এর অভিযানে মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাইপাইল, আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে আদম খান জানায়, হত্যাকাণ্ডের ১ বছর পূর্বে সে ভিকটিম নুরচান বেগমের ছেলে শফিকের থেকে ২০০০ টাকা ধার নেন।
এর চার পাঁচ মাস পর শফিকের পিতা অর্থাৎ ভিকটিম নুরচান বেগমের স্বামী আব্দুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।মৃত্যুর পর নুরচান বেগমের পরিবার আর্থিক অনটনের কারনে গত ৩১ মে ১৯৯৯ সালে পাওনা টাকা চাইলে আদম খান টাকা না দেয়ার তালবাহানা করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করে।
এসময় ভিকটিম প্রতিবেশী আছমত উল্লাহর নিকট তার তিন বছরের কোলের শিশু তাজউদ্দিনকে নিয়ে ঘটনার বিচার চাইতে গেলে আদম খান পুনরায় আছমত উল্লাহর বসতঘরে এসে নুরচান বেগমকে গালিগালাজ এবং তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে বুকের বাম পার্শ্বে আঘাত করে। এতে ভিকটিম নুরচান বেগম ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন বলে জানান র্যাব।
গ্রেফতারকৃত রফিক আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিক গ্রাম থেকে পালিয়ে সিলেট শহরে কিছুদিন অবস্থান করে। নিজেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে গোপন রাখার জন্য ঢাকার আশুলিয়ায় চলে আসে।
২০১২ সালের মার্চ মাসে আদম খান মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি ভূয়া জন্ম সনদ তৈরি করে এনআইডি’র জন্য আবেদন করে, যেখানে তার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে মাদবপুর, হবিগঞ্জ উল্লেখ করে। গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ বছর সে তার গ্রামের বাড়ীতে যায়নি বলে জানান র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।